চিরকুট কবিতা – হুমায়ূন আহমেদ
হঠাৎ সেদিন হাতে পেয়ে চিরকুট নিমিষে সময় হয়ে গেলো যেন লুট; পার হয়ে বহু বছরের ব্যবধান কানে ভেসে এলো হারানো দিনের গান।
হঠাৎ সেদিন হাতে পেয়ে চিরকুট নিমিষে সময় হয়ে গেলো যেন লুট; পার হয়ে বহু বছরের ব্যবধান কানে ভেসে এলো হারানো দিনের গান।
যদি ভয় হয় তোমার মনে কর আমায় আজও ছায়া হয়ে পাশে আছি তোমার যদি ভয় হয় তোমার মনে কর আমায় আজও ছায়া হয়ে পাশে আছি তোমার
নারীমুক্তি বলে কিছু নেই। প্রতি মুহূর্তেই পুরুষকে তার দরকার। কোনও মেয়ে যদি তার স্বামীকে না মানে, স্বাধীন হয়, তবে অন্য পুরুষরা তাকে ছিড়ে খাবে। স্বাধীন মেয়ের মতো এমন সহজ ভোগ্যবস্তু পুরুষের আর কী আছে? বড়ভোগ্যা হলে কি স্বাধীন হওয়া হয়?
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ’পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
বিশ্বাস জীবনে চলার পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যখন কারো উপরে বিশ্বাস হারায় তাদের সাথে আমাদের জীবনের পথ চলার ব্যাপারটি অমসৃণ…
গতকাল আমি বুদ্ধিমান ছিলাম, তাই আমি বিশ্বকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম। আজ আমি জ্ঞানী, তাই আমি নিজেকে পরিবর্তন করছি। --- মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি (র.)
যুদ্ধ কখনো ধর্ম রক্ষা করে না, জাতি রক্ষা করে না। যুদ্ধ শুধু মানুষ ধ্বংস করে। একটা মায়ের কোল খালি হয়, একটা শিশুর শৈশব নষ্ট হয়, একটা স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। যারা যুদ্ধ করে, তারা শুধু নিজের ক্ষমতা বাড়াতে চায়। আর যারা সাধারণ মানুষ, তারা যুদ্ধের বোঝা বইতে বাধ্য হয়।
অনেক মূহুর্ত আমি ক্ষয় ক’রে ফেলে বুঝেছি সময় যদিও অনন্ত, তবু প্রেম সে অনন্ত নিয়ে নয়। তবুও তোমাকে ভালোবেসে মূহুর্তের মধ্যে ফিরে এসে বুঝেছি অকূলে জেগে রয় ; ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়।
কেউ বুঝেনি আমায়, চেনেনি তো কেউ দেখেও কতবার তবু দেখেনি কেউ মোর সত্য কল্পনা যতো বাস্তবতা মিথ্যে ততো তাই আমি, বৃষ্টি এলেই পাহাড়ের চূড়ায় বসে বর্ষায় ভিজি ভাঙ্গলে মেঘ, পারি যেতেও আকাশ শুকাতে রোদের তীরে নিজেকে আমি
শীতের সকাল। রোদে বসে আমি স্কুলের পড়া করছি, মা কাছে বসে ফুলকপি কুটছেন। সে এসেই বলল, আপনার রান্নার জন্য লোক রাখবেন? আমি ছোটো ছেলে-মেয়েও রাখব। নিঃসঙ্কোচ আবেদন। বোঝা গেল সঙ্কোচ অনেক ছিল, প্রাণপণ চেষ্টায় অতিরিক্ত জয় করে ফেলেছে। তাই যেটুকু সঙ্কোচ নিতান্তই থাকা উচিত তাও এর নেই। বয়স আর কত হবে, বছর তেইশ। পরনে সেলাই করা ময়লা শাড়ি, পাড়টা বিবর্ণ লাল। সীমান্ত পর্যন্ত ঘোমটা, ঈষৎ বিশীর্ণ মুখে গাঢ় শ্রান্তির ছায়া, স্থির অচঞ্চল দুটি চোখ। কপালে একটি ক্ষত-চিহ্ন-আন্দাজে পরা টিপের মতো।
অশিক্ষিত স্ত্রীলোকের শত দোষ সমাজ অম্লানবদনে ক্ষমা করিয়া থাকে। কিন্তু সামান্য শিক্ষাপ্রাপ্ত মহিলা দোষ না করিলেও সমাজ কোনো কল্পিত দোষ শতগুন বাড়াইয়া সে বেচারীর দোষ ঐ শিক্ষার ঘাড়ে চাপাইয়া দেয় এবং শত কন্ঠে সমস্বরে বলিয়া থাকে স্ত্রীশিক্ষাকে নমস্কার! ~ বেগম রোকেয়া
যেসব মুসলমান হিন্দুদের বিধর্মী মনে করে, তাদের ক্ষতি করতে চায়, আমি তাদের বলি তোমরা কারা? খুব বেশি হইলে চার-পাঁচ পুরুষ আগে তোমরা কারা ছিলা? তোমাদের বাপ-দাদার বাপ-দাদারা ছিলেন হয় হিন্দু নয় নমঃশূদ্র। এ দেশের হিন্দু আর মুসলমানের একই রক্ত। কতজন আরব ইরান-আফগানিস্তান হইতে আসিয়াছে? পাঁচ পুরুষ আগে যারা ছিলো তোমাদের পূর্বপুরুষ আজ তাদের গায়ে হাত তুলতে তোমাদের বুক কাঁপে না? তোমরা কি মানুষ না পশু?
একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ আগামীকাল, কিংবা আগামী সপ্তাহে, পরের মাসে, পরের বছরে কী ঘটতে চালছে তা সম্বন্তে ভবিযাদ্বাণী করতে পারেন। যদি সেগুলি না ঘাট তার কারণ যুক্তিগ্রাহ্যভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপনার দক্ষতাও তার থাকে।
"ক্ষমা করো পৃথিবী তাকে আমি ঘৃনা করতে পারিনি। তাকে আমি নিষ্ঠুর মৃত্যু দিতে পারিনি! যার হাতের পাঁচটি আঙ্গুল আমার নির্ভরতা, যার বুকের পাঁজরে লেগে থাকা ঘামের গন্ধ আমার সবচেয়ে প্রিয়। যার উষ্ণ ঠোঁটের ছোয়া আমার প্রতি দিনের অভ্যাস, যার এলোমেলো চুলে হারিয়ে যাই বারংবার যার ভালোবাসার আহবানে সব কিছু তুচ্ছ করে ছুটে যায়, যার মিষ্টি সোহাগে অন্য জগতে হারিয়ে যায়। তার কষ্ট আমি কি করে সহ্য করি। লোকে বলে স্বামীর বা পাজরের হারে স্ত্রী তৈরি, তাহলে যার পাজরে আমার সৃষ্টি তার আর্তনাদ কি করে শুনি! এই কঠিন কাজ আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ও পৃথিবী সবাইকে বলে দিও, আমার কবর যেন আমার স্বামীর কবরের ঠিক বা পাশেই হয়, আমি তাকে ভালোবাসি, যেমন সত্য চন্দ্র সূর্য তেমন সত্য আমি তাকে ভালোবাসি"!!!
এদেশের আলস্য, ঔদাস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা ও জড়তাকে দূর করিয়া দেশের প্রাণে প্রবল কর্মশক্তি জাগাইয়া দিতে হইবে; সমগ্র দেশে এমন ধর্মের প্রভাব বিস্তার করিতে হইবে যাহার প্রভাবে প্রভাবান্বিত হইয়া, যাহার শক্তিতে শক্তিশালী হইয়া এদেশ আবার জাগিয়া উঠিবে।