বন্দনা কবিতা — শাহ মুহম্মদ সগীর
দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥ পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত ॥ অশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাবাল। তান দয়া হস্তে হৈল এ ধড় বিশাল ॥
দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥ পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত ॥ অশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাবাল। তান দয়া হস্তে হৈল এ ধড় বিশাল ॥
মানসিংহ : শোনা যায়, একদা এক অসুররাজ গোস্পদে ডুবে মরেছিল। একথা বিশ্বাস করো, দুর্জয়সিংহ? দুর্জয়সিংহ : এ পুরাণের কাহিনিমাত্র। বিশ্বাস করি না! মানসিংহ : আমিও আগে বিশ্বাস করতাম না, দুর্জয়সিংহ, কিন্তু এখন বিশ্বাস করি। দুর্জয়সিংহ : সত্যি বিশ্বাস করেন, মহারাজ? মানসিংহ : চোখের সামনে যা ঘটে গেল, দুর্জয়সিংহ, তাতে বিশ্বাস না-করি কেমনে, তাই বলো। নইলে বাংলার এক অজ্ঞাতনামা ক্ষুদ্র পাঠানসর্দার ঈসা খাঁ, তারই তলোয়ারতলে মারা যায় ক্ষত্র-বীর মানসিংহের আপন জামাতা? দুর্জয়সিংহ : আশ্চর্যই বটে! মানসিংহ : মানুষ হয়ে জন্মেছিল, একদিন তো সে মরতই-না-হয় দুদিন আগে মরেছে। কিন্তু রাজপুতনার মরুসিংহ মারা গেল বাংলার বকরির হাতে-এ দুঃখ রাখবার স্থান কোথায়, দুর্জয়সিংহ?
৩৩. অন্ধবধূর মানসিকতা কেমন? (ক) আশাবাদী (খ) স্বপ্নাতুর (গ) দ্বন্দ্বময় (ঘ) বেদনাসঘন উত্তর: (ক) আশাবাদী ৩৪. অন্ধবধূর কীসে শঙ্কা জাগে? (ক) কখনো দেখতে পাবে না বলে (খ) গৃহকোণে একলা থাকায় (গ) বাড়ি আসার পথ খুঁজে পাবে না বলে (ঘ) শ্যাওলা-পিচ্ছিল ঘাটে পা ফসকালে উত্তর: (ঘ) শ্যাওলা-পিচ্ছিল ঘাটে পা ফসকালে
বর্তমান জগতে মানুষের জীবন বড় জটিল ও অস্বস্তিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কি তার জন্য কাম্য, কি নয়, এই নিয়ে পণ্ডিতে পণ্ডিতে মতভেদের আর অন্ত নেই। ধ্রুব বলে' কোথাও কিছু আছে কি না এই সংশয় জনসাধারণে পর্যন্ত সংক্রমিত হচ্ছে। তবু যে-সব দেশ ভাগ্যবান সে-সব দেশে এই বিপদ কাটিয়ে উঠবার চেষ্টাও কম হচ্ছে না। মানুষের এতদিনের জ্ঞান ও বিশ্বাসের সবকিছুই যদি ঝালিয়ে নিতে হয় তবে তা নিতে হবে এ সঙ্কল্প যাঁদের অন্তরে প্রবল তাঁদের জন্য বেশীর ভাগ বিপদ কেটে গেছে বলা যেতে পারে।
বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে বলার জন্য সব সময়ই কিছু না কিছু থাকে। যেখানে একজন বোকা ব্যক্তির কিছু বলার জন্য প্রয়োজন অনুভব হয়।
হে সূর্য! শীতের সূর্য! হিমশীতল সুদীর্ঘ রাত তোমার প্রতীক্ষায় আমরা থাকি, যেমন প্রতীক্ষা করে থাকে কৃষকের চঞ্চল চোখ ধানকাটার রোমাঞ্চকর দিনগুলির জন্যে। হে সূর্য, তুমি তো জানো, আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব!
নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক-শিক্ষক নিশানাথবাবু কিছুদিন হলো রিটায়ার করেছেন। আরো বছরখানেক চাকরি করতে পারতেন; কিন্তু করলেন না। কারণ দুটো চোখেই ছানি পড়েছে। পরিষ্কার কিছু দেখেন না। ব্ল্যাকবোর্ডে নিজের লেখা নিজেই পড়তে পারেন না। নিশানাথবাবুর ছেলেমেয়ে কেউ নেই। একটা মেয়ে ছিল। খুব ছোটোবেলায় টাইফয়েডে মারা গেছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন গত বছর। এখন তিনি একা একা থাকেন। তার বাসা নান্দিনা বাজারের কাছে। পুরান আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরোনো লক্কড় জিনিসপত্র দিয়ে ঠাসা। তার নিজের জিনিস নয়। বাড়িওয়ালার জিনিস। ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা-নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা নিশানাথবাবুকে প্রায়ই বলেন, এই সব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেবো। শেষপর্যন্ত করেন না। তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না। পাশে একটা হোটেলে তিনি খাওয়া দাওয়া সারেন। বিকেলে নদীর ধারে একটু হাঁটতে যান। সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে এসে চুপচাপ বসে থাকেন। তার একটা কেরোসিনের স্টোভ আছে। রাতের বেলা চা খেতে ইচ্ছা হলে স্টোভ জ্বালিয়ে নিজেই চা বানান।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়ল, আবদুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গে সে এসে ঘরে ঢুকল। রুটি, মামলেট, পনির, চা। অন্যদিন খাবার দিয়ে চলে যেত, আজ সামনে দাঁড়িয়ে কার্পেটের দিকে তাকিয়ে রইল। কী মুশকিল। মৌলানা এসে বললেন, চিরকুটে লেখা আছে, মাথাপিছু দশ পাউন্ড লাগেজ নিয়ে যেতে দেবে। কী রাখি, কী নিয়ে যাই? ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন চারদিকে তাকালাম, তখন মনে যে প্রশ্ন উঠল তার কোনো উত্তর নেই। নিয়ে যাব কী, আর রেখে যাব কী? ওই তো আমার দু ভল্যুম রাশান অভিধান। এরা এসেছে মস্কো থেকে ট্রেনে করে তাশখন্দ, সেখান থেকে মোটরে করে আমুদরিয়া, তারপর খেয়া পেরিয়ে, খচ্চরের পিঠে চেপে সমস্ত উত্তর আফগানিস্তান পিছনে ফেলে, হিন্দুকুশের চড়াই-উতরাই ভেঙে এসে পৌঁছেছে কাবুল। ওজন পাউন্ড ছয়েক হবে।
৩২. 'জুতা আবিষ্কার' কবিতার মূল উপপাদ্য কী? (ক) জুতা আবিষ্কারের কাহিনী বলা (খ) তৎকালীন রাজাদের নির্বুদ্ধিতার বর্ণনা (গ) সাধারণ লোকের বুদ্ধির প্রশংসা (ঘ) মন্ত্রীদের অজ্ঞতা নির্দেশ উত্তর: (গ) সাধারণ লোকের বুদ্ধির প্রশংসা ৩৩. 'আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি রাজ্যে মোর এ কি অনা সৃষ্টি'— উদ্ধৃত লাইন দুটিতে রাজার কী রকম মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? (ক) অহংকার (খ) ক্ষোভ (গ) হিংসা (ঘ) কর্তৃত্বপরায়ণ উত্তর: (খ) ক্ষোভ
এক তাঁতি আর তার বউ। তারা বড়োই গরিব। কোনোদিন খায়, কোনোদিন খাইতে পায় না। তাঁত খুঁটি চালাইয়া, কাপড় বুনাইয়া, কীই-বা তাহাদের আয়? আগেকার দিনে তাহারা বেশি উপার্জন করিত। তাহাদের হাতের একখানা শাড়ি পাইবার জন্য কত বাদশাজাদিরা, কত নবাবজাদিরা তাহাদের উঠানে গড়াগড়ি পাড়িত। তখন একখানা শাড়ি বুননে মাসের পর মাস লাগিত। কোনো কোনো শাড়ি বুনন করতে বৎসরেরও বেশি সময় ব্যয় হইত। সেইসব শাড়ি বুনাইতে কতই-না যত্ন লইতে হইত। রাত থাকিতে উঠিয়া তাঁতির বউ চরকা লইয়া ঘড়র-ঘড়র করিয়া সুতা কাটিত। খুব ধরিয়া ধরিয়া চোখে নজর আসে না, এমনই সরু করিয়া সে সুতা কাটিত। ভোরবেলায় আলো-আঁধারির মধ্যে সুতা-কাটা শেষ করিতে হইত। সূর্যের আলো যখন চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িত, তখন সুতা কাটিলে সুতা তেমন মুলাম হইত না।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ।।
জীবন যেমন সত্য মৃত্যু ও তেমনই সত্য। জন্ম নিলের মৃত্যুর স্বাদ ও গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যু বরাবরই একটি ভীতিকর ব্যাপার।…
মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর চারিদিকে শুনি হাহাকার। ফুলের ফসল নেই, নেই কারও কণ্ঠে আর গান ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি প্রাণহীন সব মুখ ম্লান।
কোথায় চলেছো? এদিকে এসো না! দুটো কথা শোনো দিকি, এই নাও — এই চকচকে, ছোটো, নতুন রুপোর সিকি। ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে, তোমায় দিচ্ছি তাও, আমাদের যদি তোমার সঙ্গে নৌকায় তুলে নাও।
মানুষ যখন হাসে তখন তার সঙ্গে সমস্ত পৃথিবী হাসে। কিন্তু সে যখন কাঁদে, তার সঙ্গে আর কেউ কাঁদে না। কাঁদতে হয় একা একা।