আহমদ ছফা উক্তি : ছফার ৩০ টি বিখ্যাত উক্তি
একটি কাক আরেকটি কাকের মুখের খাবার কেড়ে নেয়ার জন্য যতরকম ধূর্ততার আশ্রয় নিয়ে থাকে, একজন কবি আরেকজন কবির প্রাপ্য সম্মানটুকু কেড়ে নেয়ার জন্য তাঁর চাইতে কিছু কম করে না।
একটি কাক আরেকটি কাকের মুখের খাবার কেড়ে নেয়ার জন্য যতরকম ধূর্ততার আশ্রয় নিয়ে থাকে, একজন কবি আরেকজন কবির প্রাপ্য সম্মানটুকু কেড়ে নেয়ার জন্য তাঁর চাইতে কিছু কম করে না।
এই পৃথিবীতে আমরা শান্তি চাই আমরা এশিয়ার কৃষক এই পৃথিবীতে আমরা শান্তি চাই আমরা আফ্রিকার শ্রমিক এই পৃথিবীতে আমরা শান্তি চাই আমরা ইউরোপের শিশু আমরা শান্তি চাই; আমাদের সকলের সমবেত প্রার্থনা আজ- শান্তি।
আপনি যদি একটি দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে নিজের ৩৫ বছর বয়সেও সেই দরিদ্রই থাকেন তবে দরিদ্র হয়ে থাকাটা আপনার কপালের দোষ নয়, আপনি এটি প্রত্যাশা করেন। কারন আপনি আপনার যুবক বয়সকে কোন কাজে লাগাতে পারেন নি, আপনি সম্পূর্ণ ভাবে সময়টা নষ্ট করে দিয়েছেন।
একটি আংটির মতো তোমাকে পরেছি স্বদেশ আমার কনিষ্ঠ আঙুলে, কখনও উদ্ধত তলোয়ারের মতো দীপ্তিমান ঘাসের বিস্তারে, দেখেছি তোমার ডোর কাটা জলজলে রূপ জ্যোৎস্নায়। তারপর তোমার উন্মুক্ত প্রান্তরে কাতারে কাতারে কত অচেনা শিবির, কুচকাওয়াজের ধ্বনি, যার আড়ালে তুমি অবিচল, অটুট, চিরকাল।
ভালো মানুষের রাগ থাকে বেশি। যারা মিচকা শয়তান— তারা রাগে না। পাছায় লাত্থি মারলেও লাত্থি খেয়ে হাসবে। -রূপার পালঙ্ক, হুমায়ূন আহমেদ
ওরে মন কান্না কেন? যন্ত্রণায় কেন জর্জরিত? মৃত্যুর পাষাণ বুকে প্রার্থনার বাণী ব্যর্থ হয়ে অবিশ্রান্ত ফিরে আসে। চলে কাল নির্লিপ্ত নির্ভয়ে। তুমি কি জানো না মন আমরা কালের হাতে ধৃত?
আমি একা এই পৃথিবীকে বদলে দিতে পারবোনা। তবে আমি স্বচ্ছ জলে একটি ছোট পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করে বড় বড় জলতরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারবো।
শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি নীলবর্ণ আলোর সংকেত। হতাশার মতোন হঠাৎ দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। যাদের সাথে, শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি, আঠারো বছর বয়সেই অহরহ বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।
নদীর ধসের নিচে বাতাসের মধ্যে আছে কিছুটা আশ্রয়; গানের বদলে পাখি চুপিসারে কথা বলে শঙ্খের পরিভাষা শিখে, ঢেউ হয়ে গেছে বালুময়। ভেসে যাওয়া ডালপালা কুড়িয়ে কাড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে তার পাশে বসে আছে ভূমিহীন কৃষিজীবী, ইচ্ছে তার জেলে হয়ে কিছু মাছ ধরে।
মদ পিও আর ফুর্তি করো- আমার সত্য আইন এই ! পাপ পুন্যের খোজ রাখি না- স্বতন্ত্র মোর ধর্ম সেই ভাগ্য সাথে বিয়ের দিনে কইনু, “দিব কি যৌতুক?” কইল বধূ “খুশি থেকো, তার বড় যৌতুক সে নেই !”
সে নিজে বেশ বুঝতে পারে, এই এক বৎসরে তাহার মনের প্রসারতা এত বাড়িয়া গিয়াছে, এমন একটা নতুনভাবে সে জগৎটাকে, জীবনটাকে দেখিতে আরম্ভ করিয়াছে… সে এটুকু বেশ বোঝে, কলেজে পড়িয়া ইহা হয় নাই, কোনো প্রফেসরের বক্তৃতাতেও না- যাহা কিছু হইয়াছে, এই বড় আলমারি ভরা লাইব্রেরিটার জন্য, সে তাহার কাছে কৃতজ্ঞ। সে যতক্ষণ লাইব্রেরিতে থাকে, ততক্ষণ তাহার খাওয়াদাওয়ার কথা তত মনে থাকে না। এই সময়টা এক একটা খেয়ালের ঘোরে কাটে। খেয়ালমত এক একা বিষয়ে প্রশ্ন জাগে মনে, তাহার উত্তর খুজিতে গিয়া বিকারের রোগীর মত অদম্য পিপাসায় সে সম্বন্ধে যত বই পাওয়া যায় হাতের কাছে- পড়িতে চেষ্টা করে।
আপনাদের সবার জন্যে এই উদার আমন্ত্রণ ছবির মতো এই দেশে একবার বেড়িয়ে যান। অবশ্য উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো মনোহারী স্পট আমাদের নেই, কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না- আপনার স্ফীত সঞ্চয় থেকে উপচে-পড়া ডলার মার্ক কিংবা স্টার্লিংয়ের বিনিময়ে যা পাবেন ডাল্লাস অথবা মেম্ফিস অথবা কালিফোর্নিয়া তার তুলনায় শিশুতোষ!
নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে উনসত্তর হাজার। ধবল দুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার। নষ্ট ক্ষেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস দিয়ে এত বড় চাঁদ?
তুমি বসন্তের কোকিল। প্রাণ ভরিয়া ডাক, তাহাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু তোমার প্রতি আনুরোধ সময় বুঝিয়া ডাকিবে।