You are currently viewing Norwegian Wood (নরওয়েজিয়ান ওড) : যে উপন্যাস বিষন্নতার দিকে ঠেলে দেয়

Norwegian Wood (নরওয়েজিয়ান ওড) : যে উপন্যাস বিষন্নতার দিকে ঠেলে দেয়

বছর ২ হচ্ছে, ফিকশন পড়ার অভ্যাস কমিয়ে নন-ফিকশন বইয়ের দিকে একটু বেশি ঝুঁকেছি। বিশেষ করে রোমান্টিক জনরার বই একেবারে না পড়ার পর্যায়ে চলে গেছে। যদিও এই জনরার বই আমার কৈশোর থেকেই পছন্দের। এখনো যে এই জনরার বই আমার পছন্দের জনরার মধ্যে উপরের দিকেই থাকবে তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারবো না।

Norwegian Wood হারুকি মুরাকামির সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস। এতোটাই জনপ্রিয় যে জাপানে নাকি কোনো তরুণ তরুণী কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল যিনি কখনো Norwegian Wood পড়েন নি।

Norwegian Wood নামটি লেখক মহাশয় বিটলস এর Norwegian Wood গানটি থেকে নিয়েছেন। ভদ্রলোক আমার মতোই বিটলসের বিশেষ অনুরাগী। আর তাইতো বারবার উপন্যাসের মাঝে মাঝেই বিলটসের বিভিন্ন গান টেনে এনেছেন। বেশ কয়েক জায়গায় পড়েছি তিনি বিটলসের এই Norwegian Wood গানটি শুনে বিষন্নতায় ডুবে গিয়েছিলেন। আর সেই বিষন্নতা থেকে উপন্যাসটি লেখা শুরু করেছিলেন।

মুরাকামির লেখা আমি আগে খুব বিশেষ পড়িনি। একটামাত্রই বই পড়েছিলাম তাও ২-৩ বছর আগে Kafka on the shore, সেই বই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার মোটেও ভালো নয়। Kafka on the shore বই পড়তে গিয়ে আমি মাসখানেক রিডার্স ব্লকে আটকে ছিলাম। তবে Norwegian Wood বলতে গেলে একচুমুকেই শেষ করেছি মাত্র ৩ সেশন লেগেছে শেষ করতে।

এই বই পড়তে গিয়ে যে কারোরই বিষন্নতা আসা খুবই স্বাভাবিক। পুরো বই পড়ার সময়ে আমি যেনো বারবার আমার কৈশরে ফিরে গেছি। আর বার বার কৈশরের সেই কিশোরী আমার মনে উঁকি মেরেছে, যাকে আমার কখনো প্রেম নিবেদন করা হয়ে উঠেনি। 

সংক্ষেপে উপন্যাসের প্লট

সময়টা ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকের। জাপানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের সময় ১৯ বছরের তরু ওয়াতানাবে টোকিওতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা করতে।

সেই সময়ে তার জীবনে আসে ২ জন নারী নাওকো ও মিদোরি। নাওকো তার হাইস্কুলের মৃত বন্ধুর প্রেমিকা। তরু ধীরে ধীরে নিজের মৃত বন্ধু কিজুকির প্রেমিকা নাওকোর প্রেমে ডুবে যায়। একই সাথে মিদুরির মতো চমৎকার বন্ধুর সংস্পর্শতাও ছাড়তে পারছিলেন না। এভাবেই চলতে থাকে উপন্যাসের প্রধান ৩ চরিত্রের ত্রিভুজ প্রেম।

আরো পড়ুন:  কবি জীবনানন্দ দাশের প্রেম শোভনা

আপাতদৃষ্টিতে উপন্যাসের গল্প খুবই সরল মনে হলেও গল্পের মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা বিশাল। প্রেম,নিঃসঙ্গতা আর যোনতা সেখানে অদ্ভুত এক মাদকতার সৃষ্টি করেছে।

শেষে তারুর নাওকো ও মিদোরির প্রতি ভালোবাসার সিদ্বান্তিহীনতার সমাপ্তির দাগ টেনে দেয় নাওকোর আকষ্মিক আত্মহত্যা।  আর নাওকোর হঠাৎ আত্মহত্যা তরুকে টেনে নিয়ে যায় বিষন্নতার শেষ পরিণতির দিকে। গল্পের বিষয়বস্তু প্রেম ও বিষন্নতা হলেও মুরাকামি গল্পের মাঝেই বলেছেন “Death exists, not as the opposite but as a part of life.”

পুরো উপন্যাসে মুরাকামি প্রত্যেকটি স্থান ও ঘটনার বিষদ বিবরণ দিয়েছেন। ডিটেকটিভ উপন্যাস ছাড়া আমার গল্পে অতিরিক্ত ডেসক্রিপশন ভালো না লাগলেও এই উপন্যাসে ভালো লেগেছে। তরুর শসা খাওয়ার কচ কচ শব্দ, বাতাসে ঠান্ডা বৃষ্টির গন্ধ, সরু পাহাড়ি রাস্তায় বাসের ছুটেচলা থেকে সবকিছুই মুরাকামি যেনো একজন দক্ষ চিত্রশিল্পীর মতোই যেনো রংতুলির পরিবর্তে শব্দ দিয়ে পেইন্টিং করেছেন।

পুরো উপন্যাসে অসংখ্য পছন্দের লাইন বা সংলাপ থাকলেও; আমার সবচেয়ে লাইন,

The more the memories of Naoko inside me fade, the more deeply I am able to understand her. I know,too, why she asked me not to forget her. Naoko herself knew, of course. She knew that my memories of her would fade. Which is precisely why she begged me never to forget her, to remember that she had existed.

Leave a Reply