৬৫+ মির্জা গালিবের প্রেম, ভালোবাসা, জীবন, মৃত্যু নিয়ে বিখ্যাত উক্তি,বাণী, শায়েরী ও কবিতা
আধার কেটে গেলে মানুষ চাঁদকেও ভুলে যায়। মানুষকে সাহায্য করে ভাবো ওরা তোমাকে মনে রাখবে? তুমি এ পৃথিবীর, সবচেয়ে বোকা গালিব।
আধার কেটে গেলে মানুষ চাঁদকেও ভুলে যায়। মানুষকে সাহায্য করে ভাবো ওরা তোমাকে মনে রাখবে? তুমি এ পৃথিবীর, সবচেয়ে বোকা গালিব।
আমি এমন মানুষ দেখেছি, যাদের জন্যে এই দুনিয়া তাদের পায়ের নিচের ধুলো থেকেও তুচ্ছ। আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা দিনশেষে শুধুমাত্র তাদের নিজের অংশের খাবারটুকু জোগাড় করতে পারতেন, তবুও তারা বলতেন, “আমি এর সবটুকু দিয়ে নিজের উদরপূর্তি করব না। আমি অবশ্যই এর কিছু অংশ আল্লাহর ওয়াস্তে দান করব।” এরপর তারা তাদের খাবারের কিছু অংশ দান করে দিতেন যদিও গ্রহণকারীর চেয়ে ওই খাবারটুকু তাদেরই বেশি প্রয়োজন ছিল।
চিকিৎসকের আদেশে দেওঘরে এসেছিলাম বায়ু পরিবর্তনের জন্যে। প্রাচীর ঘেরা বাগানের মধ্যে একটা বড় বাড়িতে থাকি। রাত্রি তিনটে থেকে কাছে কোথাও একজন গলাভাঙা একঘেয়ে সুরে ভজন শুরু করে, ঘুম ভেঙে যায়, দোর খুলে বারান্দায় এসে বসি। ধীরে ধীরে রাত্রি শেষ হয়ে আসে- পাখিদের আনাগোনা শুরু হয়। দেখতাম ওদের মধ্যে সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল। অন্ধকার শেষ না হতেই তাদের গান আরম্ভ হয়, তারপরে একটি দুটি করে আসতে থাকে বুলবুলি, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি- পাশের বাড়ির আমগাছে, এ বাড়ির বকুল-কুঞ্জে, পথের ধারের অশ্বত্থগাছের মাথায়- সকলকে চোখে দেখতে পেতাম না, কিন্তু প্রতিদিন ডাক শোনার অভ্যাসে মনে হতো যেন ওদের প্রত্যেককেই চিনি। হলদে রঙের একজোড়া বেনে-বৌ পাখি একটু দেরি করে আসত। প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে তারা প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত। হঠাৎ কী জানি কেন দিন-দুই এলো না দেখে ব্যস্ত হয়ে উঠলাম, কেউ ধরলে না তো? এদেশে ব্যাধের অভাব নেই, পাখি চালান দেওয়াই তাদের ব্যবসা- কিন্তু তিন দিনের দিন আবার দুটিকে ফিরে আসতে দেখে মনে হলো যেন সত্যিকার একটা ভাবনা ঘুচে গেল।
আদুভাই ক্লাস সেভেনে পড়তেন। ঠিক পড়তেন না বলে পড়ে থাকতেন বলাই ভালো। কারণ, ওই বিশেষ শ্রেণি ব্যতীত আর কোনো শ্রেণিতে তিনি কখনো পড়েছেন কি না, পড়ে থাকলে ঠিক কবে পড়েছেন, সেকথা ছাত্ররা কেউ জানত না। অনেক শিক্ষকও জানতেন না বলেই বোধ হতো। শিক্ষকের অনেকে তাঁকে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন। কারণ নাকি এই যে, তাঁরাও এককালে আদুভাইয়ের সমপাঠী ছিলেন এবং সবাই নাকি ওই ক্লাস-সেভেনেই আদুভাইয়ের সঙ্গে পড়েছেন।
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেক সময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
প্রেমের সমাধি ভেঙে মনের শিকল ছিঁড়ে পাখি যায় উড়ে যায়, আ.. তোমায় পাবোনা জানি শুধু চোখের পানি দিয়ে গেলে আমায়। আ.. খাঁচার পাখি তবু খাঁচায় থাকে না বনেরও পাখি বনের মায়া ছাড়ে না।
ধীরে ধীরে রাত বাড়তে লাগলো। চাঁদ হেলে পড়লো পশ্চিমে। উঠোনের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলো। পরীর দীঘির পারে একটা রাতজাগা পাখির পাখা ঝাপটানোর আওয়াজ শোনা গেলো। রাত বাড়ছে। হাজার বছরের পুরনো সেই রাত।
‘সুভা’ গল্পে পিতা-মাতার মনে কে সর্বদাই জাগরূক ছিল? (ক) সুকেশিনী (খ) সুভাষিণী (গ) সুহাসিনী (ঘ) প্রতাপ উত্তর: (খ) সুভাষিণী ‘সুভা’ গল্পে সুভা কোন্ ধরনের প্রতিবন্ধী? (ক) বুদ্ধি (খ) শ্রবণ (গ) দৃষ্টি (ঘ) বাক্ উত্তর: (ঘ) বাক্
দইওয়ালা : দই-দই-ভালো দই! অমল: দইওয়ালা, দইওয়ালা, ও দইওয়ালা! দইওয়ালা: ডাকছ কেন? দই কিনবে? অমল : কেমন করে কিনব! আমার তো পয়সা নেই। দইওয়ালা: কেমন ছেলে তুমি। কিনবে না তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন? অমল: আমি যদি তোমার সঙ্গে চলে যেতে পারতুম তো যেতুম। দইওয়ালা: আমার সঙ্গে! অমল: হাঁ। তুমি যে কত দূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ, শুনে আমার মন কেমন করছে।
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল! সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল— ঝিঙে ফুল। গুল্মে পর্ণে লতিকার কর্ণে ঢলঢল স্বর্ণে ঝলমল দোলো দুল— ঝিঙে ফুল ॥ পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে, গান তব শুনি সাঁঝে তব ফুটে ওঠাতে।
অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে এক জুমচাষি দম্পতি ছিল। তাদের একটি মেয়ে ছিল। খুবই সুখে দিন কাটছিল তাদের। প্রতিদিন অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে ওই দম্পতি রান্না-বান্না সেরে, খেয়ে, জুমচাষের কাজে বেরিয়ে পড়ত। মেয়েটিকে ঘরে রেখে যেত। সে ঘর পাহারা দিত আর ঘরের খুঁটিনাটি কাজ করত। সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে আসত। আবার রাতের রান্না সেরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। এভাবে তাদের দিন অতিবাহিত হতে লাগল। একদিন তারা মেয়েকে ধান শুকাতে বলে গেল। মা-বাবা বেরিয়ে যাবার পর তাদের নির্দেশমতো উঠানে ধান শুকাতে দিল। পাশে বসে সে পাহারা দিতে লাগল যাতে কোনো পশুপাখি খেতে না-পারে। ধান প্রায় শুকিয়ে এসেছে। তুলতে যাবে এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এক ঝাঁক সাদা টিয়া আর হলুদ টিয়া এসে ধানের ওপর বসল। একটা-দুটো করে এক নিমেষে সব ধান খেয়ে শেষ করে ফেলল। মেয়েটি তাদেরকে অনেক নিষেধ করল। বলল, 'লক্ষ্মী টিয়ারা, তোমরা ধান খেয়ো না। বাবা-মা ফিরে এসে ধান না দেখলে আমাকে মেরে ফেলবে।' টিয়ারা বলল, 'আমরা একটু খাব, মা-বাবা বকলে, মারলে, আমাদের কাছে চলে এসো।' সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে এসে ধান না দেখে মেয়েকে ভীষণ বকুনি দিল। তারা মনে করল, সে নিশ্চয় পাহারা দেয়নি।
অডিসিয়ুস নগরে ঢুকেছেন। তখন রাত নেমেছে এই অজানা নগরে। পদে পদে তাঁর দুশ্চিন্তা। পথে একটি মেয়েকে দেখতে পেয়ে বললেন, 'এই যে মেয়ে, শোনো, আমি এদেশের লোক নই। বাইরে থেকে এসেছি। কাউকে চিনি না এখানকার। আমি রাজবাড়ি যাব। বলে দেবে কি তার পথটা কোনদিকে?' মেয়েটির বাড়ি রাজবাড়ির কাছেই। তার স্বভাবটি ভারি মিষ্টি। সে বলল, 'আমার সঙ্গে আসুন। দেখিয়ে দেবো। কিন্তু আপনি যে বিদেশি তা কাউকে আর বুঝতে দেবেন না। কারো সঙ্গে কথা বলবেন না। বিদেশিদের আমরা বড়ো একটা পছন্দ করি না।' অডিসিয়ুস বুঝলেন এ মেয়ে খুব বুদ্ধিমতী। কোনো কথা না বলে তিনি চললেন ওর পিছু পিছু।
গণতন্ত্র বা জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাজ্য বা সরকারের প্রধান নির্বাচনের ধারণা এসেছিল প্রাচীন গ্রিসের অ্যাথেন্স থেকে, যা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব প্রায়…
বৃষ্টি-নেশাভরা লন্ডনের সন্ধ্যাবেলায় ছোট্ট ঘরটিতে বসে জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছি। যতদূর চোখ যায় শুধু দেখছি, লন্ডনের বাড়িঘরগুলোর চিমনি থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। ধোঁয়ায় আর মেঘেঢাকা লন্ডন পাথরের মতো বুকের ওপর চেপে বসেছে। মনে মনে ফিরে গেলাম আট হাজার মাইল দূরে, রাজশাহীর যে বাসাটায় আমার পরিজনেরা বাস করছে সেখানে। ওখানে হয়তো এরও চেয়ে ঘনকালো মেঘ করেছে। বাংলাদেশের আষাঢ়ের মেঘ- যেমন গম্ভীর তেমনি কালো। হয়তো নেমেছে ঘন বর্ষা। অবিরল ধারাবর্ষণের মধুর রোল গানের অনুরণনের মতো কেঁপে কেঁপে তাদের হয়তো নিদ্রাকাতর করে দিয়েছে।
মেজো মামার বিয়ে। ছোটো মামা আর মেজোমামা তাই এসেছেন দাওয়াত দিতে। বাড়ির সবাই বিয়ের তিন, দিন আগে মামাবাড়ি যাবে। শুধু আমিই যেতে পারব না। কারণ, আমার পরীক্ষা। হ্যাঁ, মামার যেদিন বিয়ে ঠিক, তার আগের দিনই আমার পরীক্ষা শেষ হবে। মেজোমামা পরদিনই চলে গেলেন। শুধু ছোটোমামা রইলেন। তিনি বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে (অবশ্য আমি বাদে) নিয়ে যাবেন। - সেদিন খাওয়ার পর ছোটোমামার সঙ্গে গল্প করছিলাম।