রাজসিংহ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের পর উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে। এরপর ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত চতুর্থ সংস্করণে আমূল পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের পর উপন্যাসটির কলেবর পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসটির বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।
রাজসিংহ উপন্যাসটি মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসনামলে রাজপুতানা অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে রচনা করা হয়েছে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাজসিংহ, তিনি উদয়পুরের মেওয়ার রাজা। রাজসিংহ মুঘলদের শাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে রাজপুত স্বাধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেন।
পুরো উপন্যাসজুড়ে রাজপুতদের বীরত্ব, দেশপ্রেম, আত্মতও স্বাধীনতার প্রবল আকাঙ্খা উঠে এসেছে। একদিকে মুঘলদের ক্ষমতা বিস্তারের প্রচেষ্টা, অন্যদিকে রাজপুতদের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম—এই দ্বন্দ্বই উপন্যাসের মূল বিষয়। উপন্যাসে রাজপুত সমাজের নারীদের সাহস, ত্যাগ ও অনমনীয়তাও এখানে বিশেষভাবে চিত্রিত হয়েছে।
১
ভার্য্যা রূপবতী হইলে, তাহার জন্য বিবাদ বিসম্বাদ উপস্থিত হয়।
২
সকল মোগল বাদশাহই দেখিলাম–পৃথিবীর কণ্টক। ঔরঙ্গজেব শাহজাঁহার অপেক্ষাও কি নরাধম?
৩
কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না।
৪
কতকগুলি লোক আছে, এদেশের লোক তাহাদের বর্ণনার সময় বলে, “ইহারা কুকুর মারে, কিন্তু হাঁড়ি ফেলে না৷”
৫
পাহাড় যত নিকট দেখায়, তত নিকট নয়।