নাস্তিকতা বা নাস্তিক্যবাদ একটি দর্শনের নাম যেখানে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সহজ ভাষায় আস্তিক্যবাদ এর বর্জনকেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। নাস্তিকতা বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাস নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য। ইংরেজিতে ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিক্য বা নিরীশ্বরবাদ। এইথিজম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক ‘এথোস’ (ἄθεος) শব্দটি থেকে। এই শব্দটি সেই সকল মানুষকে নির্দেশ করে যারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই বলে মনে করে এবং প্রচলিত ধর্মগুলোর প্রতি অন্ধবিশ্বাস কে যুক্তি দ্বারা ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করে। দিনদিন মুক্ত চিন্তা, সংশয়বাদী চিন্তাধারা এবং ধর্মসমূহের সমালোচনা বৃদ্ধির সাথে সাথে নাস্তিক্যবাদেরও প্রসার ঘটছে। এই ব্লগে নাস্তিক ও নাস্তিকতা নিয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষদের কিছু অসাধারণ উক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
১
নাস্তিকতা মানুষের মাঝে যুক্তি, দর্শন, মানবতা, আইন এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনিবার্য সকল গুনের সন্নিবেশ ঘটায়, যেক্ষেত্রে ধর্ম নামক কুসংস্কারটি এর প্রায় সব-ই হরণ করে নেয় এবং একনায়কতন্ত্রের মতোন বিরাজ করতে চায় মানুষ-এর চিন্তাশীল মনটির উপর। এ কারণে দেখা যায়, নাস্তিকতা বা নাস্তিকেরা দেশ ও সমাজের হিতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আর ধর্ম বা ধার্মিকেরা স্বস্বার্থে ঘটায় বিদ্রোহ।
~ লর্ড ফ্রান্সিস বেকন
২
নাস্তিক হওয়া সহজ নয়। এ এক অনন্য শক্তিধর অভিব্যক্তি। কেননা বিশেষ জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও মনোবল না থাকলে নাস্তিক হওয়া যায় না। আশৈশব লালিত বিশ্বাস, সংস্কার, আচার-আচারন, রীতিণীতি পরিহার করা সাধারনের পক্ষে সম্ভব নয়, কেবল আসামান্য নৈতিক শক্তিধর যুক্তিবাদী মানুষের পক্ষেই তা সহজ।
– আহমদ শরীফ
৩
ধর্মানুভূতি কোনো নীরিহ ব্যাপার নয়, তা বেশ উগ্র; এবং এর শিকার অসৎ কপট দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নয়, এর শিকার সৎ ও জ্ঞানীরা; এর শিকার হচ্ছে জ্ঞান। জ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ চলছে কয়েক সহস্রক ধ’রে, উৎপীড়িত হ’তে হ’তে জয়ী হচ্ছে জ্ঞান, বদলে দিচ্ছে পৃথিবীকে; তবু আজো পৗরাণিক বিশ্বাসগুলো আধিপত্য করছে, পীড়ন ক’রে চলছে জ্ঞানকে। ধর্মানুভূতির আধিপত্যের জন্যে কোনো গুণ বা যুক্তির দরকার পড়ে না, প্রথা ও পুরোনো বই যোগায় তার শক্তি, আর ওই শক্তিকে সে প্রয়োগ করতে পারে নিরঙ্কুশভাবে।
— হুমায়ুন আজাদ
৪
আমি তোমাকে নাস্তিক হতে বলি না, বাইবেলটা ভাল করে পড়ো, ওটিই তোমাকে নাস্তিক বানায়।
— আইজাক আসিমভ
৫
যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য বড় বড় প্রশ্নগুলোর বেশিরভাগেরই উত্তর আগে থেকেই পাওয়া। কিন্তু আমাদের মতো যারা সহজে “ঈশ্বরের সূত্র” মেনে নিতে পারে না, তাদের জন্য এসব বড় প্রশ্নের উত্তর পাথরে খোদাই করে রাখা থাকে না। আমরা নতুন পরিস্থিতি আর নতুন আবিষ্কারের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিই। আমরা নমনীয়। ভালোবাসা কোনো আদেশ হতে হবে না, আর বিশ্বাসও কোনো নিয়ম নয়। আমি আমার নিজের ঈশ্বর। আমরা এখানে এসেছি গির্জা, রাষ্ট্র আর শিক্ষাব্যবস্থার শেখানো ভুল জিনিসগুলো ভুলে যেতে। আমরা এখানে এসেছি বিয়ার পান করতে। আমরা এখানে যুদ্ধকে শেষ করতে।আমরা এখানে এসেছি সম্ভাবনার বিরুদ্ধে হেসে উঠতে এবং এমনভাবে বাঁচতে যাতে মৃত্যু আমাদের নিতে এসে নিজেই কাঁপে।
— চার্লস বুকোস্কি
৬
সব চিন্তাশীল ব্যক্তিই নাস্তিক।
— আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
৭
মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দির ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।
— হুমায়ুন আজাদ
৮
ধর্ম মানুষকে এমন সব কথা বিশ্বাস করিয়েছে যে আকাশে নাকি এক অদৃশ্য মানুষ থাকে। সে তোমার প্রতিটা কাজ দেখছে—দিন-রাত, সব সময়। তার আবার দশটা নিয়ম আছে, যেগুলো তুমি ভুলেও ভাঙতে পারবে না। এই নিয়মগুলো ভাঙলে, সে তোমাকে আগুন-ধোঁয়া আর কষ্টে ভরা এক জায়গায় পাঠিয়ে দেবে, যেখানে তোমাকে চিরদিন জ্বলে-পুড়ে কষ্ট পেতে হবে।কিন্তু সে নাকি তোমাকে খুব ভালোবাসে। আর সে সব সময় তোমার কাছ থেকে টাকা চায়! সে সব জানে, সব পারে তবুও নাকি টাকার ব্যাপারে খুবই অসহায়!
— জর্জ কারলিন
৯
মানুষ কি ঈশ্বরের ভুল, নাকি ঈশ্বর মানুষের ভুল কল্পনা?
— ফেড্রিখ নিৎসে
১০
বিশ্বাস আমার লক্ষ্য নয়; জ্ঞানই আমার লক্ষ্য।
~ কার্ল সাগান
