মে দিনের কবিতা — সুভাষ মুখোপাধ্যায়
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
তুমি ছাড়া শূন্য লাগে কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে কী যে ছাই চিন্তা, কী যে ছাই চিন্তা, কী ছাই চিন্তা ওহে কান্তা পোড়ে প্রানটা দুঃখ জাগে
বৃষ্টি এলো... বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি!– পদ্মা মেঘনার দুপাশে আবাদি গ্রামে, বৃষ্টি এলো পূবের হাওয়ায়, বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়; বিদ্যুৎ-রূপসী পরী মেঘে মেঘে হয়েছে সওয়ার। দিকদিগন্তের পথে অপরূপ আভা দেখে তার বর্ষণ-মুখর দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়, রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেত আজ তার স্পর্শ পেতে চায়, নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।
বিষ্টি এল কাশ বনে জাগল সাড়া ঘাস বনে, বকের সারি কোথা রে লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে। নদীতে নাই খেয়া যে, ডাকল দূরে দেয়া যে, কোন্ সে বনের আড়ালে ফুটল আবার কেয়া যে।
বোমা বা পিস্তল কোনও বিপ্লবের জন্ম দেয় না। বিপ্লবের তরোয়াল ক্ষুরধার হয় নিকষ পাথরে ভাবনার ঘাত প্রতিঘাত দিয়ে। ~ ভগৎ সিং
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়? বরকতের রক্ত। হাজার যুগের সূর্যতাপে জ্বলবে এমন লাল যে, সেই লোহিতেই লাল হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে!
গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। তাই শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
আসমানের তারা সাক্ষী সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি মাছরাঙা আমাকে চেনে আমি কোনো অভ্যাগত নই খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই আমি কোনো আগন্তুক নই।
উঁচু টিলার ওপর একটা চালাঘর, ছনের ছাউনি, এক চিলতে বারান্দা, ঝকঝকে নিকোনো উঠোন, চারদিকে অনুচ্চ পাঁচিল, তারপর নিবিড় বন, টিলার পর টিলা- পুবে উত্তরে দক্ষিণে সীমানাহীন, কে জানে কোথায় ঠেকেছে, হয়তো-বা হিমালয়ে। পশ্চিমটাই শুধু কিছুটা খোলা, সবুজ নদীর মতো একফালি ধানখেত এঁকেবেঁকে চলেছে ছোট ছোট টিলার ফাঁকে ফাঁকে, পাশে একটা ছড়া- কাঁকড়ের ওপর গড়িয়ে চলা কল্লোলিত স্বচ্ছ জলধারা, এমন যে পায়ের পাতাটুকুই কেবল তাতে ডোবে, কিন্তু বৃষ্টি নামলেই প্রমত্তা, ঘোলাজলের ঢল পাক খেতে খেতে পাড়-খেত জমিন ডুবিয়ে দিয়ে গর্জে ছুটে চলে।
অনেক কথার গুন্জন শুনি অনেক গানের সুর সবচেয়ে ভালো লাগে যে আমার মাগো ডাক সুমধুর। আমার দেশের মাঠের মাটিতে কৃষাণ দুপুরবেলা ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার সুর লয়ে করে খেলা।
গতকাল চালাক ছিলাম, তাই পৃথিবীকে বদলাতে চেয়েছিলাম। আজ আমি বিজ্ঞ, তাই নিজেকে বদলাতে চাই। ~ মাওলানা জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ রুমি
সূর্য-ঝলকে! মৌসুমী ফুল ফুটে স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে।
ধন্য সবাই ধন্য অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে মাতৃভূমির জন্য। ধরল যারা জীবন বাজি হলেন যারা শহিদ গাজি লোভের টানে হয় নি যারা ভিনদেশীদের পণ্য।
ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো।