রানার কবিতা — সুকান্ত ভট্টাচার্য
রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে, রানার চলেছে, রানার! দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার - রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার। কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।
রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে, রানার চলেছে, রানার! দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার - রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার। কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না সত্যি বলছি কুস্তি ক'রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না--- জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না?
নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছ নয়নে নয়নে, হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে হৃদয়ে রয়েছ গোপনে।
জেনেছি সত্য বহু দিন মনে মনে মুক্তির পথ মিশে গেছে জনগণে, যেখানে লক্ষ লোকের রুক্ষ হাত সৃষ্টির মাঝে নিয়োজিত দিনরাত,
মাস্তুলে উঠিয়ারে মাঝি মন মাঝি রে এদিক-ওদিক চায়... মাস্তুলে উঠিয়ারে মাঝি মন মাঝি রে এদিক-ওদিক চায়.. পেছন ফিরা চাইয়া দেখো রে মন মাঝি রে বেলা ডুইবা যায় ও'রে... মন মাঝি খবরদার আমার তরী যেনো ভেড়ে না আমার নৌকা যেনো ডুবে না মন মাঝি খবরদার....
বাবুদের তাল-পুকুরে হাবুদের ডাল-কুকুরে সে কি বাস করলে তাড়া, বলি থাম একটু দাড়া। পুকুরের ঐ কাছে না লিচুর এক গাছ আছে না হোথা না আস্তে গিয়ে য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে গাছে গো যেই চড়েছি ছোট এক ডাল ধরেছি, ও বাবা মড়াত করে পড়েছি সরাত জোরে।
আমি সেই জগতে হারিয়ে যেতে চাই, যেথায় গভীর-নিশুত রাতে জীর্ণ বেড়ার ঘরে নির্ভাবনায় মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে ভাই ॥
মেঘনা নদী দেব পাড়ি কল-আলা এক নায়ে। আবার আমি যাব আমার পাহাড়তলী গাঁয়ে। গাছ ঘেরা ঐ পুকুর পাড়ে বসব বিকাল বেলা। দু-চোখ ভরে দেখব কত আলো-ছায়ার খেলা।
আপনিই আপনার ভাগ্যের নির্মাতা। আপনি আপনার আশেপাশের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারেন, নির্দেশিত এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনি যেমন চান আপনার জীবনকে তেমন বানাতে পারেন।
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
তুমি ছাড়া শূন্য লাগে কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে কী যে ছাই চিন্তা, কী যে ছাই চিন্তা, কী ছাই চিন্তা ওহে কান্তা পোড়ে প্রানটা দুঃখ জাগে
বৃষ্টি এলো... বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি!– পদ্মা মেঘনার দুপাশে আবাদি গ্রামে, বৃষ্টি এলো পূবের হাওয়ায়, বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়; বিদ্যুৎ-রূপসী পরী মেঘে মেঘে হয়েছে সওয়ার। দিকদিগন্তের পথে অপরূপ আভা দেখে তার বর্ষণ-মুখর দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়, রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেত আজ তার স্পর্শ পেতে চায়, নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।
বিষ্টি এল কাশ বনে জাগল সাড়া ঘাস বনে, বকের সারি কোথা রে লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে। নদীতে নাই খেয়া যে, ডাকল দূরে দেয়া যে, কোন্ সে বনের আড়ালে ফুটল আবার কেয়া যে।
বোমা বা পিস্তল কোনও বিপ্লবের জন্ম দেয় না। বিপ্লবের তরোয়াল ক্ষুরধার হয় নিকষ পাথরে ভাবনার ঘাত প্রতিঘাত দিয়ে। ~ ভগৎ সিং