তিরন্দাজ – যোগীন্দ্রনাথ সরকার

সেকালে দিল্লির কাছে হস্তিনা নামে এক নগর ছিল। শান্তনু সেই হস্তিনায় রাজত্ব করিতেন। একদিন শান্তনু যমুনার তীরে বেড়াইতে গিয়া অপরূপ সুন্দরী একটি কন্যা দেখিতে পাইলেন। এই কন্যার নাম সত্যবতী। শিশুকাল হইতে এক ধীবর তাঁহাকে পালন করিয়াছিল। রাজা ধীবরের কাছে গিয়া তাঁহার পালিত কন্যাটিকে বিবাহ করিতে চাহিলেন। ধীবর বলিল, 'মহারাজ, আপনার দেবব্রতের মতো সোনার চাঁদ ছেলে থাকিতে সত্যবতীর ছেলের রাজ্য পাইবার কোনোই সম্ভাবনা নাই, কাজেই এই বিবাহে আমি মত দিতে পারি না।' দেবব্রত একদিন ধীবরের কাছে গিয়া বলিলেন, 'আমার পিতার সহিত আপনার কন্যার বিবাহ দিন। ভবিষ্যতে তাঁহার পুত্রই রাজা হইবেন। প্রতিজ্ঞা করিতেছি, আমি কখনো সিংহাসন দাবি করিব না।'

Continue Readingতিরন্দাজ – যোগীন্দ্রনাথ সরকার

নয়া পত্তন – জহির রায়হান

ভোরের ট্রেনে গাঁয়ে ফিরে এলেন শনু পণ্ডিত। ন্যুজ দেহ, রুক্ষ চুল, মুখময় বার্ধক্যের জ্যামিতিক রেখা। অনেক আশা-ভরসা নিয়েই শহরে গিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, কিছু টাকাপয়সা সাহায্য পেলে আবার নতুন করে দাঁড় করাবেন স্কুলটাকে। আবার শুরু করবেন গাঁয়ের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর কাজ। কত আশা! আশার মুখে ছাই! কেউ সাহায্য দিল না স্কুলটার জন্য। না চৌধুরীরা। না সরকার। সরকারের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে তো রীতিমতো ধমকই খেলেন শনু পণ্ডিত। শিক্ষা বিভাগের বড়ো সাহেব শমসের খান বললেন, রাজধানীতে দুটো নতুন হোটেল তুলে, আর সাহেবদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটা ইংলিশ স্কুল দিতে গিয়ে প্রায় কুড়ি লাখ টাকার মতো খরচ। ফান্ডে এখন আধলা পয়সা নেই সাহেব। অযথা বারবার এসে জ্বালাতন করবেন না আমাদের। পকেটে যদি টাকা না থাকে, স্কুল বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকুন। এমনভাবে ধমকে উঠেছিলেন তিনি যেন স্কুলের জন্য সাহায্য চাইতে এসে ভারি অন্যায় করে ফেলেছেন শনু পণ্ডিত।

Continue Readingনয়া পত্তন – জহির রায়হান

বাঙলা শব্দ – হুমায়ুন আজাদ

বাংলা ভাষার একরকম শব্দকে বলা হয় 'তদ্ভব শব্দ'। আরেক রকম শব্দকে বলা 'তৎসম শব্দ'। এবং আরেক রকম শব্দকে বলা হয় 'অর্ধতৎসম শব্দ'। এ-তিন রকম শব্দ মিলে গড়ে উঠেছে বাংলা ভাষার শরীর। 'তৎসম', 'তদ্ভব' পারিভাষিক শব্দগুলো চালু করেছিলেন প্রাকৃত ভাষার ব্যাকরণ রচয়িতারা। তাঁরা 'তৎ' অর্থাৎ 'তা' বলতে বোঝাতেন 'সংস্কৃত' (এখন বলি প্রাচীন ভারতীয় আর্য) ভাষাকে। আর 'ভব' শব্দের অর্থ 'জাত, উৎপন্ন'। তাই 'তদ্ভব' শব্দের অর্থ হলো 'সংস্কৃত থেকে জন্ম নেওয়া', আর 'তৎসম' শব্দের অর্থ হচ্ছে 'সংস্কৃতের সমান' অর্থাৎ সংস্কৃত। বাংলা ভাষার শব্দের শতকরা বায়ান্নটি শব্দ 'তদ্ভব' ও অর্ধ-তৎসম'। শতকরা চুয়াল্লিশটি 'তৎসম'। তাই বাংলা ভাষার শতকরা ছিয়ানব্বইটিই মৌলিক বা বাংলা শব্দ।

Continue Readingবাঙলা শব্দ – হুমায়ুন আজাদ

কাকতাড়ুয়া – সত্যজিৎ রায়

মৃগাঙ্কবাবুর সন্দেহটা যে অমূলক নয় সেটা প্রমাণ হলো পানাগড়ের কাছাকাছি এসে। গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে গেল। পেট্রোলের ইনডিকেটরটা কিছুকাল থেকেই গোলমাল করছে, সে কথা আজও বেরোবার মুখে ড্রাইভার সুধীরকে বলেছেন, কিন্তু সুধীর গা করেনি। আসলে কাঁটা যা বলছিল তার চেয়ে কম পেট্রোল ছিল ট্যাংকে। 'এখন কী হবে?' জিজ্ঞেস করলেন মৃগাঙ্কবাবু। 'আমি পানাগড় চলে যাচ্ছি', বলল সুধীর, 'সেখান থেকে তেল নিয়ে আসব।' 'পানাগড় এখান থেকে কতদূর?' 'মাইল তিনেক হবে।'

Continue Readingকাকতাড়ুয়া – সত্যজিৎ রায়