কামিনী রায়ের বিখ্যাত উক্তি
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ’পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ’পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
বিশ্বাস জীবনে চলার পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যখন কারো উপরে বিশ্বাস হারায় তাদের সাথে আমাদের জীবনের পথ চলার ব্যাপারটি অমসৃণ…
যুদ্ধ কখনো ধর্ম রক্ষা করে না, জাতি রক্ষা করে না। যুদ্ধ শুধু মানুষ ধ্বংস করে। একটা মায়ের কোল খালি হয়, একটা শিশুর শৈশব নষ্ট হয়, একটা স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। যারা যুদ্ধ করে, তারা শুধু নিজের ক্ষমতা বাড়াতে চায়। আর যারা সাধারণ মানুষ, তারা যুদ্ধের বোঝা বইতে বাধ্য হয়।
অনেক মূহুর্ত আমি ক্ষয় ক’রে ফেলে বুঝেছি সময় যদিও অনন্ত, তবু প্রেম সে অনন্ত নিয়ে নয়। তবুও তোমাকে ভালোবেসে মূহুর্তের মধ্যে ফিরে এসে বুঝেছি অকূলে জেগে রয় ; ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়।
অশিক্ষিত স্ত্রীলোকের শত দোষ সমাজ অম্লানবদনে ক্ষমা করিয়া থাকে। কিন্তু সামান্য শিক্ষাপ্রাপ্ত মহিলা দোষ না করিলেও সমাজ কোনো কল্পিত দোষ শতগুন বাড়াইয়া সে বেচারীর দোষ ঐ শিক্ষার ঘাড়ে চাপাইয়া দেয় এবং শত কন্ঠে সমস্বরে বলিয়া থাকে স্ত্রীশিক্ষাকে নমস্কার! ~ বেগম রোকেয়া
যেসব মুসলমান হিন্দুদের বিধর্মী মনে করে, তাদের ক্ষতি করতে চায়, আমি তাদের বলি তোমরা কারা? খুব বেশি হইলে চার-পাঁচ পুরুষ আগে তোমরা কারা ছিলা? তোমাদের বাপ-দাদার বাপ-দাদারা ছিলেন হয় হিন্দু নয় নমঃশূদ্র। এ দেশের হিন্দু আর মুসলমানের একই রক্ত। কতজন আরব ইরান-আফগানিস্তান হইতে আসিয়াছে? পাঁচ পুরুষ আগে যারা ছিলো তোমাদের পূর্বপুরুষ আজ তাদের গায়ে হাত তুলতে তোমাদের বুক কাঁপে না? তোমরা কি মানুষ না পশু?
একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ আগামীকাল, কিংবা আগামী সপ্তাহে, পরের মাসে, পরের বছরে কী ঘটতে চালছে তা সম্বন্তে ভবিযাদ্বাণী করতে পারেন। যদি সেগুলি না ঘাট তার কারণ যুক্তিগ্রাহ্যভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপনার দক্ষতাও তার থাকে।
"ক্ষমা করো পৃথিবী তাকে আমি ঘৃনা করতে পারিনি। তাকে আমি নিষ্ঠুর মৃত্যু দিতে পারিনি! যার হাতের পাঁচটি আঙ্গুল আমার নির্ভরতা, যার বুকের পাঁজরে লেগে থাকা ঘামের গন্ধ আমার সবচেয়ে প্রিয়। যার উষ্ণ ঠোঁটের ছোয়া আমার প্রতি দিনের অভ্যাস, যার এলোমেলো চুলে হারিয়ে যাই বারংবার যার ভালোবাসার আহবানে সব কিছু তুচ্ছ করে ছুটে যায়, যার মিষ্টি সোহাগে অন্য জগতে হারিয়ে যায়। তার কষ্ট আমি কি করে সহ্য করি। লোকে বলে স্বামীর বা পাজরের হারে স্ত্রী তৈরি, তাহলে যার পাজরে আমার সৃষ্টি তার আর্তনাদ কি করে শুনি! এই কঠিন কাজ আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ও পৃথিবী সবাইকে বলে দিও, আমার কবর যেন আমার স্বামীর কবরের ঠিক বা পাশেই হয়, আমি তাকে ভালোবাসি, যেমন সত্য চন্দ্র সূর্য তেমন সত্য আমি তাকে ভালোবাসি"!!!
এদেশের আলস্য, ঔদাস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা ও জড়তাকে দূর করিয়া দেশের প্রাণে প্রবল কর্মশক্তি জাগাইয়া দিতে হইবে; সমগ্র দেশে এমন ধর্মের প্রভাব বিস্তার করিতে হইবে যাহার প্রভাবে প্রভাবান্বিত হইয়া, যাহার শক্তিতে শক্তিশালী হইয়া এদেশ আবার জাগিয়া উঠিবে।
স্বাধীনতার পর থেকে শুধু শাসকের হাত বদল হয়েছে, আমরা কিছু পাইনি। একদল খেয়েছে, আরেক দল খাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে। আমরা এরকম চাই না। আমরা চাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।
হেঁটে বেড়ানো কাবুলীরা পছন্দ করে না। প্রথম বিদেশী ডাক্তার যখন এক কাবুলী রোগীকে হজমের জন্য বেড়াবার উপদেশ দিয়েছিলেন তখন কাবুলী নাকি প্রশ্ন করেছিল যে, পায়ের পেশীকে হায়রান করে পেটের অন্ন হজম হবে কি করে?
শুধু ইট-কাঠ-সিমেন্ট হলেই তো একটা সুন্দর বাড়ি হয় না! আর্কিটেক্ট চাই, ইঞ্জিনিয়ার চাই, মিস্ত্রি চাই। সোনার তালের দাম থাকতে পারে কিন্তু তার সৌন্দর্য নেই, স্বর্ণকারের হাতে সেই সোনা পড়লে কত সুন্দর গহনা হয়! মেমসাহেব তুমি আমার সেই আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী!
সকল মোগল বাদশাহই দেখিলাম–পৃথিবীর কণ্টক। ঔরঙ্গজেব শাহজাঁহার অপেক্ষাও কি নরাধম?
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে; কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।”
মিথ্যা বলা মানে আত্মার ক্ষয়। জন্মের সময় মানুষ বিশাল এক আত্মা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। মিথ্যা বলতে যখন শুরু করে তখন আত্মার ক্ষয় হতে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে দেখা যায়, আত্মার পুরোটাই ক্ষয় হয়ে গেছে। — হুমায়ূন আহমেদ