একটি কাফি কবিতা — বিষ্ণু দে
আমারও মন চৈত্রে পলাতক, পলাশে আর আমের ডালে ডালে সবুজ মাঠে মাঝবয়সী লালে দণ্ড দুই মুক্তি-সুখে জিরায় : মাটির কাছে সব মানুষ খাতক।
আমারও মন চৈত্রে পলাতক, পলাশে আর আমের ডালে ডালে সবুজ মাঠে মাঝবয়সী লালে দণ্ড দুই মুক্তি-সুখে জিরায় : মাটির কাছে সব মানুষ খাতক।
এই অক্ষর যেন নির্ঝর ছুটে চলে অবিরাম যেন কিছু তারা দিচ্ছে পাহারা আকাশেতে লিখে নাম। অক্ষরগুলি চায় মুখ তুলি শিখি তার কাছে
মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি, আজ আমাদের ছুটি, ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি।। কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন্ বনে যাই, কোন্ মাঠে যে ছুটে বেড়াই, সকল ছেলে জুটি।।
ভোর হলো, দোর খোলো খুকু,মনি ওঠ রে! ঐ ডাকে যুঁই-শাখে ফুল-খুকি ছোটরে! রবি মামা দেয় হামা গায়ে রাঙা জামা ঐ, দারোয়ান গান গায় শোন ঐ, রামা হৈ!' ত্যাজি নীড় করে ভিড় ওড়ে পাখি আকাশে এন্তার গান তার ভাসে ভোর বাতাসে।
হঠাৎ সেদিন হাতে পেয়ে চিরকুট নিমিষে সময় হয়ে গেলো যেন লুট; পার হয়ে বহু বছরের ব্যবধান কানে ভেসে এলো হারানো দিনের গান।
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। মামার বাড়ি পদ্মপুকুর গলায় গলায় জল, এপার হতে ওপার গিয়ে নাচে ঢেউয়ের দল।
পল্লি-দুলাল, ভাই গো আমার যাব আমি-তোমার দেশে, আকাশ যাহার বনের শীষে দিক-হারা মাঠ চরণ ঘেঁষে। দূর দেশীয় মেঘ-কনেরা মাথায় লয়ে জলের ঝারি, দাঁড়ায় যাহার কোলটি ঘেঁষে বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়ি। বেতস কেয়ার বনে যেথায় ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়, পল্লি-দুলাল ভাই গো আমার, যাব সেথায়।
ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে অই। ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে ট্রেনের বাড়ি কই? একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায় মাঠ পেরুলেই বন। পুলের ওপর বাজনা বাজে ঝন ঝনাঝন ঝন।
সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি- এই নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন- সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে! আমি চলে যাব বলে চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে নরম গন্ধের ঢেউয়ে?
বল বীর – বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর – বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর! মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
তিমির রাত্রি –‘এশা’র আজান শুনি দূর মসজিদে প্রিয়া-হারা কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়া বিঁধে! আমির-উল-মুমেনিন, তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি – জানে না মুয়াজ্জিন! তকবির শুনি শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি, বাতায়নে চাই – উঠিয়াছে কি রে গগনে মরুর শশী? ও-আজানা ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান? মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ও কি ও তোমারই সে আহ্বান?
গাহি সাম্যের গান - মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর- পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর! চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ দরবেশ এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ, সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ।
ইতল বিতল গাছের পাতা গাছের তলায় ব্যাঙের ছাতা বৃষ্টি পড়ে ভাঙে ছাতা ডোবায় ডোবে ব্যাঙের মাথা।
আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা— ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্রে হলো ব্যথা! ছায়া ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি? রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি।