চিঠি বিলি কবিতা – রোকনুজ্জামান খান
ছাতা মাথায় ব্যাঙ চলেছে চিঠি বিলি করতে, টাপুস টুপুস ঝরছে দেয়া ছুটছে খেয়া ধরতে। খেয়ানায়ের মাঝি হলো চিংড়ি মাছের বাচ্চা, দু চোখ বুজে হাল ধরে সে জবর মাঝি সাচ্চা।
ছাতা মাথায় ব্যাঙ চলেছে চিঠি বিলি করতে, টাপুস টুপুস ঝরছে দেয়া ছুটছে খেয়া ধরতে। খেয়ানায়ের মাঝি হলো চিংড়ি মাছের বাচ্চা, দু চোখ বুজে হাল ধরে সে জবর মাঝি সাচ্চা।
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল! সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল— ঝিঙে ফুল। গুল্মে পর্ণে লতিকার কর্ণে ঢলঢল স্বর্ণে ঝলমল দোলো দুল— ঝিঙে ফুল ॥ পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে, গান তব শুনি সাঁঝে তব ফুটে ওঠাতে।
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে সে জাতির নাম মানুষ জাতি; এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত একই রবি শশী মোদের সাথি। শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা সবাই আমরা সমান বুঝি, কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
নাই কিরে সুখ? নাই কিরে সুখ?— এ ধরা কি শুধু বিষাদময়? যাতনে জ্বলিয়া কাঁদিয়া মরিতে কেবলি কি নর জনম লয়?— বল ছিন্ন বীণে, বল উচ্চৈঃস্বরে— না, না, না, মানবের তরে আছে উচ্চ লক্ষ্য, সুখ উচ্চতর না সৃজিলা বিধি কাঁদাতে নরে।
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা আব্বা বলেন, মন দে; পাঠে আমার মন বসে না কাঁঠালচাঁপার গন্ধে। আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মতো ডাকতে।
স্পর্শকাতরতাময় এই নাম উচ্চারণমাত্র যেন ভেঙে যাবে, অন্তর্হিত হবে তার প্রকৃত মহিমা, চুনিয়া একটি গ্রাম, ছোট্ট কিন্তু ভেতরে-ভেতরে খুব শক্তিশালী মারণাস্ত্রময় সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
“রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ, কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা, সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া, সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবীর রঙে নাওয়া, সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা- সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না।”
যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায় জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।
চাল উড়ছে, ডাল উড়ছে উড়ছে গরু, উড়ছে মোষ। খই উড়ছে, বই উড়ছে উড়ছে পাঁজি, বিশ্বকোষ। ময়লা চাদর, ফরসা জামা, উড়ছে খেতের শর্ষে, যব। লক্ষ্মীপ্যাঁচা, পক্ষীছানা ঘুরছে, যেন চরকি সব।
কিশোর তোমার দুই হাতের তালুতে আকুল সূর্যোদয় রক্ত ভীষণ মুখমণ্ডলে চমকায় বরাভয়। বুকের অধীর ফিনকির ক্ষুরধার শহিদের খুন লেগে কিশোর তোমার দুই হাতে দুই সূর্য উঠেছে জেগে।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?
অসময়ে মেহমান ঘরে ঢুকে বসে যান বোঝালাম ঝামেলার যতগুলো দিক আছে তিনি হেসে বললেন ঠিক আছে ঠিক আছে।
ছিপখান তিন-দাঁড় – তিনজন মাল্লা চৌপর দিন-ভোর দ্যায় দূর-পাল্লা! পাড়ময় ঝোপঝাড় জঙ্গল-জঞ্জাল, জলময় শৈবাল পান্নার টাঁকশাল।
রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে, রানার চলেছে, রানার! দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার - রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার। কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না সত্যি বলছি কুস্তি ক'রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না--- জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না?