হেমাপ্যাথি, এ্যালাপ্যাথি – হাসান আজিজুল হক

তিরিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগে আমাদের গাঁয়ে দুজন ডাক্তার ছিলেন। একজন হোমিওপ্যাথ আর একজন এ্যালোপ্যাথ। গাঁয়ের লোক ঠিক ঠিক বলতে পারত না-একজনকে বলত হেমাপ্যাথি আর একজনকে বলত এ্যালাপ্যাথি। দুজনের চিকিৎসার ধরন ছিল বাঁধা। ওষুধও দিতেন একরকম। হোমিওপ্যাথ অঘোর ডাক্তারের কাছে গেলেই একটুখানি সাদা ময়দার মতো গুঁড়োতে দু-তিন ফোঁটা স্পিরিট টপ টপ করে ফেলে তিন-চারটি পুরিয়া করে দিতেন। খেতে ভালোও লাগত না, মন্দও লাগত না। কখনো কখনো আবার স্রেফ টিউবওয়েলের পানিতে দু-তিন ফোঁটা স্পিরিট মিশিয়ে দিয়ে বলতেন, 'যা, খাগে যা।'

Continue Readingহেমাপ্যাথি, এ্যালাপ্যাথি – হাসান আজিজুল হক

ডেভিড কপারফিল্ড – চার্লস ডিকেন্স

আমার বাবাকে আমি কখনো দেখিনি। আমার জন্মের ছয় মাস আগে আমার বাবার চোখ থেকে এই পৃথিবীর আলো চিরকালের জন্য মুছে গিয়েছিল, তিনিও আমাকে দেখেননি। আমি থাকতাম আমার মায়ের সঙ্গে। মা হালকা গড়নের মহিলা, আমার এক দাদি তাঁকে বলতেন মোমের পুতুল। মার স্বভাবটিও কোমল প্রকৃতির, তিনি কখনো রাগ করতে পারতেন না। আমাদের বাড়িতে কাজ করত পেগোটি বলে একটি মেয়ে, ওর সঙ্গেও মাকে কোনোদিন উঁচু গলায় কথা বলতে শুনিনি। পেগোটি থাকত আমাদের পরিবারের একজন হয়ে, আমাদের খেলাধুলা সব একসঙ্গে, খাওয়াদাওয়াও একসঙ্গে, একই টেবিলে। পড়াশোনা আমি করতাম মায়ের কাছেই, মায়ের কাছে লেখাপড়ার ব্যাপারটা খেলাধুলার মতোই ভালো লাগত। মা আর পেগোটির সঙ্গে আমার বেশ ভালোই কাটছিল।

Continue Readingডেভিড কপারফিল্ড – চার্লস ডিকেন্স

মুক্তি – অ্যালেক্স হ্যালি

সকালের খাবার দেবার পর দুজন সাদা মানুষ একবোঝা জামা-কাপড় হাতে ঘরে ঢুকল। ভীত বন্দিদের বাঁধন খুলে দিয়ে সেগুলো কী করে পরতে হয় দেখিয়ে দেওয়া হলো। একটা বস্ত্রে পা থেকে কোমর পর্যন্ত, অন্য একটায় ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢাকতে হয়। কুন্টার ঘাগুলো সেরে এসেছিল। জামা-কাপড় পরামাত্র সেগুলো চুলকাতে শুরু করল। বাইরে লোকজনের কথাবার্তার কোলাহল ক্রমে বাড়ছিল। ক্রমশই লোক জমছিল। কুন্টারা জামাকাপড় পরে বিমূঢ় হয়ে বসেছিল-কী জানি এর পরে কপালে কী আছে! সাদা মানুষদুটো ফিরে এসে প্রথমে রাখা বন্দিদের মাঝে তিনজনকে বার করে নিয়ে গেল। তারপরেই বাইরের আওয়াজের ধরনটা বদলে গেল। কুন্টা অবাক হয়ে কতকগুলো অবোধ্য চিৎকার শুনছিল।

Continue Readingমুক্তি – অ্যালেক্স হ্যালি

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব – মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব ওপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য জীবসত্তার ঘরেও সে কাজ করে; ক্ষুৎপিপাসার ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা, তার অন্যতম কাজ। কিন্তু তার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অন্য কথায়, শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দিকও আছে। আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। সে শেখায় কী করে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, কী করে মনের মালিক হয়ে অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করা যায়। শিক্ষার এ দিকটা যে বড়ো হয়ে ওঠে না, তার কারণ ভুল শিক্ষা ও নিচের তলায় বিশৃঙ্খলা জীবসত্তার ঘরটি এমন বিশৃঙ্খল হয়ে আছে যে, হতভাগ্য মানুষকে সব সময়ই সে সম্বন্ধে সচেতন থাকতে হয়। ওপরের তলার কথা সে মনেই আনতে পারে না। অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি। ধনী-দরিদ্র সকলেরই অন্তরে সেই একই ধ্বনি উত্থিত হচ্ছে: চাই, চাই, আরও চাই। তাই অন্নচিন্তা তথা অর্থচিন্তা থেকে মানুষ মুক্তি না পেলে, অর্থসাধনাই জীবনসাধনা নয়- একথা মানুষকে ভালো করে বোঝাতে না পারলে মানবজীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারবে না। ফলে শিক্ষার সুফল হবে ব্যক্তিগত, এখানে সেখানে দুএকটি মানুষ শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি করতে পারবে, কিন্তু বেশির ভাগ লোকই যে তিমিরে সে তিমিরেই থেকে যাবে।

Continue Readingশিক্ষা ও মনুষ্যত্ব – মোতাহের হোসেন চৌধুরী

ফিলিস্তিনের চিঠি – ঘাসান কানাফানি

প্রিয় মুস্তাফা এক্ষুনি তোর চিঠি পেলাম। তাতে তুই আমায় লিখেছিস যে, তোর ওখানে থাকবার জন্য যা যা করা জরুরি ছিল, সব তুই করে ফেলেছিস। আমি এই খবরও পেয়েছি যে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইনজিনিয়ারিং বিভাগে আমাকে নেওয়া হয়েছে। তুই আমার জন্যে যা করেছিস, দোস্ত, সবকিছুর জন্যে তোকে ধন্যবাদ, শুকরিয়া। তবে এটা নিশ্চয়ই তোর কাছে একটু অদ্ভুত ঠেকবে যখন আমি এ খবরটা দেবো-না দোস্ত, আমি আমার মত পালটেছি। আমি তোকে অনুসরণ করে সেই দেশে যাব না, যে দেশ 'শ্যামল, সজল আর সুশ্রী সুন্দর সব মুখে ভরা'-যেমন তুই লিখেছিস। না, আমি এখানেই থাকব। কোনোদিন এদেশ ছেড়ে যাব না। আমি কিন্তু সত্যি বড্ড অস্বস্তিতে আছি, মুস্তাফা। আমাদের জীবন আর কখনোই এক খাতে বয়ে যাবে না। অস্বস্তির কারণ, আমি যেন শুনতে পাচ্ছি তুই আমায় মনে করিয়ে দিচ্ছিস-কী রে, আমরা না কথা দিয়েছিলাম সব সময় একসঙ্গে থাকব, যেমন আমরা চিরকাল একসঙ্গে বলে উঠতাম, 'আমরা বড়োলোক হবোই! আমাদের অনেক টাকা হবে।' কিন্তু দোস্ত, কিছুই আর আমার করার নেই। হ্যাঁ, আমার এখনও সেদিনটা মনে পড়ে যেদিন কায়রোর বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আমি তোর হাত চেপে ধরেছিলাম।

Continue Readingফিলিস্তিনের চিঠি – ঘাসান কানাফানি

আষাঢ়ের এক রাতে – হালিমা খাতুন

একবার দাদার সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে আবু বিশাল একটা বোয়াল মাছ ধরেছিল। তখন ছিল আষাঢ় মাস। ঝরঝর বৃষ্টি পড়ছিল থেকে থেকে। আর বিদ্যুতের ঝলক আকাশের ওপরে সোনার দাগ কেটে পালিয়ে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে। যাবার সময় মেঘের আড়াল থেকে তবলার শব্দ শুনিয়ে দিচ্ছিল। আবুর যে বয়স, তাতে তার ঘন বর্ষার রাতে মৌরিবিলে মাছ ধরতে যাবার কথা নয়। কারণ বয়স তার মোটে দশ। বড়ো ভাইয়েরা তাকে কোনো সময় সঙ্গে নিতে চায় না। বোয়াল মাছ ধরার দিনও দাদা সাজেদ ও তার বন্ধুরা একেবারেই জানতে পারেনি যে ছোট্ট আবু তাদের সঙ্গে যাচ্ছে। বলে-কয়ে যেতে চাইলে দাদারা ওকে সঙ্গে নেবে না। তাই বেচারা আবু চুপিচুপি গিয়ে নৌকার খোলের মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে ছিল এবং সেখানে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

Continue Readingআষাঢ়ের এক রাতে – হালিমা খাতুন

মানসিংহ ও ঈসা খাঁ – ইব্রাহীম খাঁ

মানসিংহ : শোনা যায়, একদা এক অসুররাজ গোস্পদে ডুবে মরেছিল। একথা বিশ্বাস করো, দুর্জয়সিংহ? দুর্জয়সিংহ : এ পুরাণের কাহিনিমাত্র। বিশ্বাস করি না! মানসিংহ : আমিও আগে বিশ্বাস করতাম না, দুর্জয়সিংহ, কিন্তু এখন বিশ্বাস করি। দুর্জয়সিংহ : সত্যি বিশ্বাস করেন, মহারাজ? মানসিংহ : চোখের সামনে যা ঘটে গেল, দুর্জয়সিংহ, তাতে বিশ্বাস না-করি কেমনে, তাই বলো। নইলে বাংলার এক অজ্ঞাতনামা ক্ষুদ্র পাঠানসর্দার ঈসা খাঁ, তারই তলোয়ারতলে মারা যায় ক্ষত্র-বীর মানসিংহের আপন জামাতা? দুর্জয়সিংহ : আশ্চর্যই বটে! মানসিংহ : মানুষ হয়ে জন্মেছিল, একদিন তো সে মরতই-না-হয় দুদিন আগে মরেছে। কিন্তু রাজপুতনার মরুসিংহ মারা গেল বাংলার বকরির হাতে-এ দুঃখ রাখবার স্থান কোথায়, দুর্জয়সিংহ?

Continue Readingমানসিংহ ও ঈসা খাঁ – ইব্রাহীম খাঁ

শিক্ষাচিন্তা – কাজী আবদুল ওদুদ

বর্তমান জগতে মানুষের জীবন বড় জটিল ও অস্বস্তিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কি তার জন্য কাম্য, কি নয়, এই নিয়ে পণ্ডিতে পণ্ডিতে মতভেদের আর অন্ত নেই। ধ্রুব বলে' কোথাও কিছু আছে কি না এই সংশয় জনসাধারণে পর্যন্ত সংক্রমিত হচ্ছে। তবু যে-সব দেশ ভাগ্যবান সে-সব দেশে এই বিপদ কাটিয়ে উঠবার চেষ্টাও কম হচ্ছে না। মানুষের এতদিনের জ্ঞান ও বিশ্বাসের সবকিছুই যদি ঝালিয়ে নিতে হয় তবে তা নিতে হবে এ সঙ্কল্প যাঁদের অন্তরে প্রবল তাঁদের জন্য বেশীর ভাগ বিপদ কেটে গেছে বলা যেতে পারে।

Continue Readingশিক্ষাচিন্তা – কাজী আবদুল ওদুদ

আলাউদ্দিনের চেরাগ – হুমায়ূন আহমেদ

নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক-শিক্ষক নিশানাথবাবু কিছুদিন হলো রিটায়ার করেছেন। আরো বছরখানেক চাকরি করতে পারতেন; কিন্তু করলেন না। কারণ দুটো চোখেই ছানি পড়েছে। পরিষ্কার কিছু দেখেন না। ব্ল‍্যাকবোর্ডে নিজের লেখা নিজেই পড়তে পারেন না। নিশানাথবাবুর ছেলেমেয়ে কেউ নেই। একটা মেয়ে ছিল। খুব ছোটোবেলায় টাইফয়েডে মারা গেছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন গত বছর। এখন তিনি একা একা থাকেন। তার বাসা নান্দিনা বাজারের কাছে। পুরান আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরোনো লক্কড় জিনিসপত্র দিয়ে ঠাসা। তার নিজের জিনিস নয়। বাড়িওয়ালার জিনিস। ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা-নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা নিশানাথবাবুকে প্রায়ই বলেন, এই সব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেবো। শেষপর্যন্ত করেন না। তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না। পাশে একটা হোটেলে তিনি খাওয়া দাওয়া সারেন। বিকেলে নদীর ধারে একটু হাঁটতে যান। সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে এসে চুপচাপ বসে থাকেন। তার একটা কেরোসিনের স্টোভ আছে। রাতের বেলা চা খেতে ইচ্ছা হলে স্টোভ জ্বালিয়ে নিজেই চা বানান।

Continue Readingআলাউদ্দিনের চেরাগ – হুমায়ূন আহমেদ

কাবুলের শেষ প্রহরে – সৈয়দ মুজতবা আলী

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়ল, আবদুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গে সে এসে ঘরে ঢুকল। রুটি, মামলেট, পনির, চা। অন্যদিন খাবার দিয়ে চলে যেত, আজ সামনে দাঁড়িয়ে কার্পেটের দিকে তাকিয়ে রইল। কী মুশকিল। মৌলানা এসে বললেন, চিরকুটে লেখা আছে, মাথাপিছু দশ পাউন্ড লাগেজ নিয়ে যেতে দেবে। কী রাখি, কী নিয়ে যাই? ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন চারদিকে তাকালাম, তখন মনে যে প্রশ্ন উঠল তার কোনো উত্তর নেই। নিয়ে যাব কী, আর রেখে যাব কী? ওই তো আমার দু ভল্যুম রাশান অভিধান। এরা এসেছে মস্কো থেকে ট্রেনে করে তাশখন্দ, সেখান থেকে মোটরে করে আমুদরিয়া, তারপর খেয়া পেরিয়ে, খচ্চরের পিঠে চেপে সমস্ত উত্তর আফগানিস্তান পিছনে ফেলে, হিন্দুকুশের চড়াই-উতরাই ভেঙে এসে পৌঁছেছে কাবুল। ওজন পাউন্ড ছয়েক হবে।

Continue Readingকাবুলের শেষ প্রহরে – সৈয়দ মুজতবা আলী

জিদ – জসীমউদ্দীন

এক তাঁতি আর তার বউ। তারা বড়োই গরিব। কোনোদিন খায়, কোনোদিন খাইতে পায় না। তাঁত খুঁটি চালাইয়া, কাপড় বুনাইয়া, কীই-বা তাহাদের আয়? আগেকার দিনে তাহারা বেশি উপার্জন করিত। তাহাদের হাতের একখানা শাড়ি পাইবার জন্য কত বাদশাজাদিরা, কত নবাবজাদিরা তাহাদের উঠানে গড়াগড়ি পাড়িত। তখন একখানা শাড়ি বুননে মাসের পর মাস লাগিত। কোনো কোনো শাড়ি বুনন করতে বৎসরেরও বেশি সময় ব্যয় হইত। সেইসব শাড়ি বুনাইতে কতই-না যত্ন লইতে হইত। রাত থাকিতে উঠিয়া তাঁতির বউ চরকা লইয়া ঘড়র-ঘড়র করিয়া সুতা কাটিত। খুব ধরিয়া ধরিয়া চোখে নজর আসে না, এমনই সরু করিয়া সে সুতা কাটিত। ভোরবেলায় আলো-আঁধারির মধ্যে সুতা-কাটা শেষ করিতে হইত। সূর্যের আলো যখন চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িত, তখন সুতা কাটিলে সুতা তেমন মুলাম হইত না।

Continue Readingজিদ – জসীমউদ্দীন

পদ্য লেখার জোরে – মাহমুদুল হক

এক দেশে ছিলেন এক বাদশাহ। হাতি-ঘোড়া সেপাই-সান্ত্রি কোনোকিছুরই তাঁর অভাব ছিল না। বাদশাহর নাম শমশের আলীজান। কোনো এক সময় বাদশাহ খুব অসুবিধায় পড়লেন। তাঁর নামের সঙ্গে মিলে যায় রাজ্যে এমন লোকের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। ছুতোর, কামার, গাছকাটা শিউলি এদের সকলের নামও শমশের। গোটা রাজ্য শমশেরময় হয়ে আছে এককথায়। তাই বাদশাহ একদিন উজির-নাজির, পাত্র-মিত্র, সভাসদ সবাইকে ডেকে দরবারে ঘোষণা করলেন- আমার ক্ষমতা তোমাদের সকলের চেয়ে খুব কম করে হলেও তিন গুণ বেশি; সুতরাং আজ থেকে আমার নামকে তিন দিয়ে গুণ করে ঠিক এইভাবে উচ্চারণ করতে হবে- শমশের শমশের শমশের আলীজান এই ঘোষণায় বিশেষ করে উজির আক্কেল আলী খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন, 'বাদশাহ নামদার দীর্ঘজীবী হউন।'

Continue Readingপদ্য লেখার জোরে – মাহমুদুল হক

খুদে গোয়েন্দার অভিযান – শহীদ সাবের

স্কুল থেকে বেরিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সেদিন সন্ধ্যা হয়ে গেল, ছোট্ট একটি গলির ভেতর দিয়ে আসছিল খোকা, অন্ধকার হয়ে এসেছে, গলির ভেতরটাতে আরো অন্ধকার, এদিকটায় গ্যাসবাতি জ্বলে, আর সেই গ্যাসের আবছা আলোয় পথ চিনে যেতে বেশ অসুবিধে। গলির মাঝামাঝি এসেই হঠাৎ কী একটা শব্দ এল তার কানে, থমকে দাঁড়ায় খোকা। এক মিনিট মাত্র, তারপরই একটা অসম্ভব চিন্তায় বুকটা তার ধড়াস করে উঠল, ভয়ে হাঁটু দুটো কাঁপছে তার। সে ভাবতে লাগল, কী করবে? কী তার করা উচিত? ইতস্তত করতে লাগল খোকা। কিন্তু বেশিক্ষণ এই অবস্থা রইল না। ধীরে ধীরে মনে সাহস ফিরিয়ে আনল সে। তার মনে হলো- এই মুহূর্তে সে যেন একটা বিরাট কর্তব্য করতে যাচ্ছে। অসীম সাহসে বুক বেঁধে সে পা টিপে টিপে এগোলো।

Continue Readingখুদে গোয়েন্দার অভিযান – শহীদ সাবের

তোতা কাহিনি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, কিন্তু জানিত না কায়দা-কানুন কাকে বলে। রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।' মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, 'পাখিটাকে শিক্ষা দাও।'

Continue Readingতোতা কাহিনি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দীক্ষা – মোহাম্মদ নাসির আলী

স্কুলে বরাবর বাংলা পড়ান সতুবাবু- সতীনাথ বোস। তিনি সেদিন গরহাজির। হেডমাস্টার মশাই তাই মৌলবি সাহেবকে ডেকে বললেন, 'সতুবাবু আজ আসেননি দেখছি! ফোর্থ ক্লাসে আজকে বাংলার পিরিয়ডটা আপনিই কোনো রকমে চালিয়ে দিনগে, কেমন?' 'জি, আচ্ছা।' বলে মৌলবি সাহেব রাজি হয়ে গেলেন। রাজি হলেন সত্যি কিন্তু মনে-মনে প্রমাদ গুনলেন। একে তো পড়াতে হবে বাংলা, তা-ও আবার ফোর্থ ক্লাসে অর্থাৎ দুষ্টের শিরোমণি লেবুদের ক্লাসে। মৌলবি সাহেব সরল গোবেচারি গোছের লোক। ধর্মপ্রাণ এই নিরীহ লোকটিকে স্কুলের শিক্ষক-ছাত্র প্রায় সবাই ভক্তিশ্রদ্ধার চোখে দেখত, তা ছাড়া একটু ভয়ও করত। ভয়ের কারণ, স্বয়ং হেডমাস্টার মশাইও মৌলবি সাহেবকে সমীহ করে চলতেন। অনেক কাজেই তিনি মৌলবি সাহেবের পরামর্শ নিতেন।

Continue Readingদীক্ষা – মোহাম্মদ নাসির আলী