You are currently viewing শেষ বিকেলের মেয়ে উক্তি : ২০ টি অসাধারণ উক্তি

শেষ বিকেলের মেয়ে উক্তি : ২০ টি অসাধারণ উক্তি

শেষ বিকেলের মেয়ে চলচ্চিত্রকার ও কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের অন্যতম রোমান্টিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে এবং সেই সময় থেকেই এটি পাঠকমহলে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ছোট পরিসরের এই বইটি যেন প্রেমের এক দোদুল্যমান গল্প, যেখানে চরিত্রগুলোর আত্মসংঘাত ও সম্পর্কের জটিলতা পাঠকদের এক অন্যরকম অনুভূতির মধ্যে নিয়ে যায়। উপন্যাসটির মূল চরিত্র কাসেদ—একজন মধ্যবিত্ত যুবক, যার জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতি আছে, কিন্তু ভাগ্য কিংবা পরিস্থিতির কারণে সেই ভালোবাসাকে সে কোনো পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে না। ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ মূলত এক তরুণ মধ্যবিত্ত কেরানি কাসেদের জীবনসংগ্রাম, প্রেম এবং তার দোদুল্যমান মানসিকতার গল্প। সমাজের প্রথাগত নিয়মকানুন, অর্থনৈতিক শ্রেণিবৈষম্য এবং স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘর্ষ এই উপন্যাসের প্রধান চালিকাশক্তি।

কাসেদ ভালোবাসে জাহানারাকে, কিন্তু তার অর্থনৈতিক অবস্থান প্রেমের এই সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে দেয় না। জাহানারা উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে, আর কাসেদ মধ্যবিত্ত। সমাজের চোখে এই প্রেম অসম। উপন্যাসটি শুরু হয় নায়ক কাসেদের একান্ত এক অনুভূতি দিয়ে। সে একজন কেরানি, যার জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, কিন্তু ভালোবাসার স্বপ্ন আছে। তার প্রেম জাহানারার প্রতি, কিন্তু ভালোবাসা প্রকাশ করার সাহস বা সামর্থ্য তার নেই। মধ্যবিত্ত জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে সবসময় পিছু টানে। সমাজ ও শ্রেণি বৈষম্যের কারণে সে কখনোই তার ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার আশা করতে পারে না। এই উপন্যাসে কাসেদের ভালোবাসার গল্প শুধু একতরফা নয়। এখানে আছে শিউলি, সালমা ও নাহারের মতো আরও কিছু নারী চরিত্র, যারা কাসেদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সে কাউকেই তার আপন করে নিতে পারে না। বিশেষ করে নাহার চরিত্রটি পাঠকদের জন্য এক রহস্যময় উপস্থিতি রেখে যায়। গল্পের শেষে পাঠককেও ভাবিয়ে তোলে—কে ছিল ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’?

আজকের বিকেলটা বড় সুন্দর, তাই না?
কালও এমনটি ছিলো।
চিরকাল যদি এমন থাকে?
তাহলে বড় একঘেয়ে লাগবে।

পৃথিবীতে আমরা সবাই প্রথমে নিজের কথা ভাবি, পরে অন্যের।

ছোট্ট একটা বাড়ি থাকবে তার, শহরে নয়, শহরতলীতে ; যেখানে লাল কাঁকরের রাস্তা আছে আর আছে নীল আর সবুজের সমারোহ।

একটানা সুখ আমি চাই না, মাঝে মাঝে দুঃখেরও প্রয়োজন আছে; নইলে সুখের মূল্য বুঝবো কেমন করে?

মেয়েরা এমনি হয়। তারা যাকে ভালোবাসে বড় স্বার্থপরের মতো ভালোবাসে।

মানুষ যত বড় হয়, এদের চিন্তা তত বাড়ে।

কালো মেয়ে সন্ধ্যার কালোয় হারিয়ে যাবে।

মানুষ মাঝে মাঝে অনেক কিছু ভাবে। কখনো তার অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। কখনো যায় না। তবু তার ভাবনার শেষ হয় না।

বোধহয় ঝড় উঠবে আজ। প্রচন্ড ঝড়।

১০

আশ্চর্য মানুষের মন। সে যে কখন কি চায় তা নিজেও বলতে পারে না। কিসে তার সুখ আর কিসে তার অসুখ এর সত্যিকার জবাব সে নিজেও দিতে পারে না কোনদিন।

১১

এক গোয়ালের গরু নাকি একসঙ্গে ঘাস খায় না। একগোত্রীয় মানুষগুলোর পক্ষেও একতালে চলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

১২

আকাশের রঙ বুঝি বারবার বদলায়।

১৩

বেহেস্তের প্রতি আমার লোভ নেই।

১৪

লড়াই শুধু রাজার সঙ্গে রাজার, এক জাতের সঙ্গে অন্য জাতের আর এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশেরই হয় না। একটি মনের সাথে অন্য একটি মনেরও লড়াই হয়।

১৫

অবুঝ স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা নিরর্থক

১৬

অভিজ্ঞতা কম-বেশি সবারই হয়। শিউলি গম্ভীর গলায় জবাব দিলো, তবে কেউ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়, কেউ নেয় না।

১৭

মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই। ওরা বিব্রতবোধ করে।

১৮

কোনোকিছুতে অতিমাত্রায় আগ্রহ দেখানোটা বোকামো।

১৯

মানুষ মাত্র স্বার্থপর। স্বার্থের প্রশ্নের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে। বাবাতে-ছেলেতে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি বসায়।

২০

জীবনের পথ যত কঠিন আর যত দুর্যোগময় হোক-না কেন, তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না। ওটা কাপুরুষতার লক্ষণ।

Leave a Reply