হেরাক্লিতোস: এক বিষন্ন গ্রীক দার্শনিক
হেরাক্লিতোসের জীবন ছিলো একাকী ও বিষন্নতার। তার এই একাকিত্বের পেছনের কারণ হিসেবে বলা হয় তিনি সাধারণ মানুষ ও তাদের জীবনপদ্ধতির উপর বিরক্ত ছিলেন। নিজ শহর ইফসোসের মানুষদের তিনি বোকা বলে সমালোচনা করতেন।
হেরাক্লিতোসের জীবন ছিলো একাকী ও বিষন্নতার। তার এই একাকিত্বের পেছনের কারণ হিসেবে বলা হয় তিনি সাধারণ মানুষ ও তাদের জীবনপদ্ধতির উপর বিরক্ত ছিলেন। নিজ শহর ইফসোসের মানুষদের তিনি বোকা বলে সমালোচনা করতেন।
লেখিকা শার্লট ব্রন্টির কালজয়ী উপন্যাস ‘জেন আয়ার’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৭ সালে। প্রকাশের সময় উপন্যাসের নাম ছিলো Jane Eyre: An Autobiography, বইটি প্রকাশের সময় চার্লট ব্রন্টে ‘কারর বেল’ ছদ্মনামে প্রকাশ করেছিলেন। উপন্যাস চরিত্র ও প্লট হিসেবে তিনি তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্প সাজিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ান যুগের এই উপন্যাসটিতে তিনি তুলে ধরেছেন নারীর ব্যক্তিসচেতনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সামাজিক প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে স্রোতের বিপরীতে চলা এক নারীর জীবনকে।
মধ্যযুগের ইউরোপে শাস্তি দেবার একটি কুখ্যাত পদ্ধতি ছিলো র্যাক। এই শাস্তি পক্রিয়ায় অপরাধীকে শাস্তি দেবার জন্য প্রথমে একটি কাঠের ফ্রেমে বেধে তারপর হাত ও পা রোলার দিয়ে টেনে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে ফেলা হতো। এই শাস্তিতে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির শরীরের হাড় ভেঙ্গে যেতে, জয়েন্ট ও মাংসপেশি ছিঁড়ে যেতো। অনেক সময় শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই মারা যেতে। অনেকে শাস্তি থেকে বাঁচতে অপরাধ না করেও দোষ স্বীকার করে নিতো। এই শাস্তি মূলত অপরাধ / দোষ স্বীকার করানো ও রাজনৈতিক শত্রুদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হতো।
তার লেখায় দেখতে পাওয়া যায় সমাজের নিচু শ্রেণীতে বাস করা সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম, দুঃখ যন্ত্রণা ও ভাগ্যের পরিহাস। ভিক্টোরিয়ান সমাজের নৈতিকতা, শ্রেণীবিভাগ, এবং যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক সাহসী কণ্ঠস্বর। ভিক্টোরিয়ান যুগের রক্ষণশীল মানুষদের রক্ষণশীলতার প্রতি তিনি তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছেন তার লেখায়। নারীর অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন, সেই সাথে সমাজের যৌন নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ঝু ইউয়ানঝাং এর বয়স যখন মাত্র ১৬ বছর তিনি তার মা-বাবা ও ভা-বোনদের হারিয়ে এতিম হয়ে যান। আর তাই বাধ্য হয়ে নানজিংয়ের কাছাকাছি এক মঠে আশ্রয় নেন সেখানে পড়ালেখা করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন। মঠে আসার পর তার মাথায় ছাদের আশ্রয় জুটলেও খাবারের জন্য তাকে ভিক্ষা করতে হতো। তবে মঠের এই জীবন বেশিদিন তার স্থায়ী হয়নি। বয়স বিশের কোঠায় পৌঁছানের আগেই তাকে মঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
উপন্যাসের শুরুতেই দেখতে পাই জন ডার্বিফিল্ড মাঝবয়সী এক লোক যার সাথে এক যাজকের দেখা হয়। সেই যাজক তাকে স্যার বলে সম্বোধন করায়, তার কারণ জানতে চাইলে তিনি জন ডার্বিফিল্ড কে বলেন; তিনি একজন ইতিহাসবেত্তা। তিনি জানতে পেরেছেন জন ডার্বিফিল্ড ঐতিহাসিক সম্ভান্ত্র ডার্ভারভিল বাংশের মানুষ। এই কথা শুনে জন ডার্বিফিল্ড বেশ খুশি হয়। সেই সাথে বংশ গৌরবে অহংকারের সাথে তার বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীর সাথে পুরো ঘটনাটি বলেন। তিনি বলেন তারা কোনো সাধারণ মানুষজন নয় তারা বিখ্যাত ডার্ভারভিল বংশের মানুষ।
প্লেগের আক্রমণে কোনো নারীর স্বামী যদি মারা যেতেন। তাহলে সেই পরিবারের প্রধান হতেন সেই সদ্য বিধবা নারী। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের দায়িত্ব ও দেখভালের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের সকল দায়িত্ব এসে পড়তো সেই নারী কাধে। তবে সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী সেই সমস্যাগুলো বিভিন্ন রকম হতো। কোনো অভিজাত বা ধনী সম্প্রদায়ের কোনো নারী বিধবা হলে তিনি প্রচুর সম্পদের অধিকারী হতেন আর গরীব নারীদের ক্ষেত্রে সেই চিত্র ছিলো পুরোপুরি উল্টো।
অ্যাডগার অ্যালান পো অবশ্য দাবি করেন উপন্যাসটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। কিন্তু তখন তাঁর সমসাময়িক কোনো সমালোচক বা পাঠক পোর দাবিকে সত্য বলে মানতে চাননি। কিন্তু অলৌকিকভাবে বই প্রকাশের ঠিক ৫ বছর পর, উপন্যাসের ঘটনার মতো একটি জাহাজডুবি ঘটে। এমনকি ওই উপন্যাসের একটি চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার একজন নাবিকের নামেরও মিল পাওয়া যায়—রিচার্ড পার্কার।
লুক ব্যাক ইন এংগার ব্রিটিশ নাট্যকার জন অসবর্ণের রচিত একটি বিখ্যাত নাটক, যা ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই নাটকের মাধ্যমে জন অসবর্ণ আধুনিক নাট্যশালায় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করেন। এই নাটকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনের পরিবর্তিত সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জীবন নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে।
দ্য কেয়ারটেকার নাটকের পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। নাটকটি ১৯৫০ ও ৬০ এর দশকের লন্ডনের সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর আক্রমণের ফলে পুরো ইউরোপের মতো ইংল্যান্ডের ও একটা বড় অংশ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাজ্য বড় ধরনের শ্রমসংকটের সম্মুখীন হয়। ১৯৪৮ সালের ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকরা ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার লাভ করে, যার ফলে তারা যুক্তরাজ্যে এসে কাজ করার সুযোগ পায় এবং এক বিশাল সংখ্যক অভিবাসনের ঢেউ সৃষ্টি হয়, যা ১৯৫০-এর দশকেও অব্যাহত থাকে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও অভিবাসীরা আসতে শুরু করে, যার মধ্যে আয়ারল্যান্ড থেকে আগতরা ছিল সবচেয়ে বড় অভিবাসী গোষ্ঠী।
ইয়লকাস রাজ্যের রাজা ছিলেন ইসন। রাজা ইসনের একমাত্র ছেলে জেসন। রাজা ইসনের মৃত্যুর সময় তার পুত্র জেসনের বয়স ছিলো খুবই কম, রাজ্যের দায়িত্বভার নেওয়া ছোট্ট জেসনের পক্ষে সম্ভব না। আর তাই রাজা ইসন তার সৎ ছোটভাই পেলিয়াসকে রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে যান। এবং বলে যান তার ছেলে জেসন যখন বড় ও দায়িত্বশীল একজন পুরুষ হয়ে উঠবে তখন যেনো তার ছেলেকে রাজ্যের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেন।
গল্পের প্রধান চরিত্র নিতাইচরণ। ডোমবংশে জন্ম হয়েছে, হিন্দু সমাজে তা পতিত ও নিচু সামাজিক স্তরে। তার পূর্বপুরুষ সকলেই চুরি,ডাকাতি ও খুন পেশার সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তার পূর্বপুরুষদের পেশা ধরে রাখেন নি কারণ তিনি যে স্বভাব কবি। পারিবারিক পেশাকে ঘৃণা করে তিরস্কার করায় তার পরিবার তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
১৫১৮ সালের জুলাই মাসে লেডি ট্রফিয়া (বা ফ্রাউ ট্রফিয়া) নামে একজন মহিলা স্ট্রাসবার্গের (তখন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য, আজকের আধুনিক ফ্রান্স) একটি ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ উম্মাদের মতো নাচতে শুরু করেন। তার নাচ দেখে অনেক দর্শক জমে যায়, সাথে তার নাচের ক্ষমতার প্রশংসাসূচক হিসেবে হাত তালিও দিতে শুরু করেছিলেন।
মধ্যযুগের ইউরোপে আদালতে শুধু মানুষ নয় পশুদেরকেও বিচার করা হতো। এটা শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও সত্যি। এডমন্ড পি. ইভান্সের “দ্য ক্রিমিনাল প্রসিকিউশন অ্যান্ড ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট অফ অ্যানিম্যালস” বইতে লেখক লিখেছেন কিভাবে, অর্ধ সহস্রাব্দেরও কম আগে, প্রাণীদের বিচার করা হয়েছিল, উপহাস করা হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাসিত করা হয়েছিল। বেশ কিছু নথিপত্র ঘাটাঘাটি করে দেখা যায় কমপক্ষে ৮৫ টি প্রাণীর বিচার করা হয়েছিলো মধ্যযুগের ইউরোপে।
জার্মানির হ্যামিলন শহরে ইঁদুরের আক্রমণ এতোটাই বেড়ে গিয়েছিল য়ে তা একপ্রকার মহামারি আকার ধারন করেছিল। আর সেই সময়ে সেই শহরে হাজির হয় হরেক রঙের পোশাক গায়ের এক বাঁশিওয়ালা। শহরের মেয়র তাকে প্রস্তাব দেয় যদি সে শহর থেকে সকল ইঁদুর তাড়াতে পারে তাহলে তাকে ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হবে।